ত্রিপুরায় আর্থিক চাপের মধ্যেও বড় ঘোষণা, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য ৫% মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধিআগরতলা: আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের স্বস্তি দিতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা সরকার। সোমবার ত্রিপুরা বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা ৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের পরপরই এই ঘোষণা সামনে আসে, যা রাজ্যের কর্মী মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।মুখ্যমন্ত্রী জানান, একইদিনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। নতুন ঘোষণার ফলে আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা বর্ধিত ডিএ পাবেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে মোট ১ লক্ষ ২ হাজার ৫৬৩ জন সরকারি কর্মচারী এবং ৮১ হাজার ৬১৯ জন পেনশনভোগী রয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে মোট প্রায় ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ১৮২ জন সরাসরি উপকৃত হবেন।তবে এই স্বস্তির ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনীতির উপর বাড়তি চাপের বিষয়টিও সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, ডিএ বৃদ্ধির ফলে রাজ্য সরকারের উপর বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা পড়বে। এই বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকারকে অতিরিক্ত অর্থের সংস্থান করতে হবে। তবুও কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।অন্যদিকে, এই ঘোষণার পরপরই বিরোধী শিবির সরব হয়ে ওঠে। কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন এবং বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী প্রশ্ন তোলেন, অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়ের বাজেট ভাষণে কেন এই ডিএ বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। তাঁদের দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক সিদ্ধান্ত যদি আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে তা বাজেটে প্রতিফলিত হওয়া উচিত ছিল।এছাড়াও বিরোধী দলনেতা রাজ্যে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন। তিনি জানতে চান, রাজ্যে মোট কতজন চুক্তিভিত্তিক কর্মী রয়েছেন এবং তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে কি না। এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানতে চেয়ে সরকারকে চাপে ফেলেন বিরোধীরা।যদিও ট্রেজারি বেঞ্চের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি, তবে জানানো হয়েছে যে বিরোধী সদস্যদের উত্থাপিত প্রশ্নগুলির পূর্ণাঙ্গ জবাব পরবর্তী সময়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই দেবেন।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আর্থিক চাপে থাকা সত্ত্বেও সরকারের এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ। এতে একদিকে যেমন কর্মচারীদের মধ্যে সন্তুষ্টি বাড়বে, অন্যদিকে সরকারের প্রতি আস্থা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা সরকারের জন্য আগামী দিনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।সব মিলিয়ে, ত্রিপুরা সরকারের এই ডিএ বৃদ্ধি একদিকে যেমন স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে, তেমনি রাজনৈতিক বিতর্কও উসকে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে সরকার কী অবস্থান গ্রহণ করে এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বিষয়ে কোনও নতুন ঘোষণা আসে কি না।