২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজ্য বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বাজেট পেশের পরপরই বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে একের পর এক সমালোচনার সুর শোনা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ সরাসরি বাজেটকে “দিশাহীন” বলে আখ্যা দিয়ে রাজ্য সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপ রায় বর্মণ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই বাজেটে এমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেই যা রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নে বাস্তবিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, বাজেট শুধুমাত্র কিছু ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছে, কিন্তু সেই ঘোষণাগুলির বাস্তবায়ন বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না বলেই তিনি মনে করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যের সাধারণ মানুষ এই বাজেট থেকে কোনও ইতিবাচক ফল পাবেন না। তাঁর কথায়, “এই বাজেট মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারবে না, বরং এটি শুধুই কাগুজে পরিকল্পনা হয়ে থাকবে।” বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আর্থিক সুরক্ষা বা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য বাজেটে কার্যকর কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বেকারত্বের বিষয়টি তুলে ধরে কংগ্রেস বিধায়ক বলেন, বর্তমানে রাজ্যের অন্যতম বড় সমস্যা হলো ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবারের বাজেটে। তাঁর অভিযোগ, বেকার যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা প্রকল্পের উল্লেখ নেই। এর ফলে আগামী দিনে যুব সমাজ আরও হতাশার মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সুদীপ রায় বর্মণের মতে, শুধু বড় বড় ঘোষণা করলেই উন্নয়ন হয় না, তার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। কিন্তু এই বাজেটে সেই দিকনির্দেশনার অভাব স্পষ্ট। তিনি বলেন, “সরকার যদি সত্যিই উন্নয়ন চায়, তাহলে কর্মসংস্থান, শিল্প উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া উচিত ছিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য কোনও দীর্ঘমেয়াদি নীতি বা সংস্কারের ইঙ্গিতও এই বাজেটে নেই। বরং বাজেটটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে এই বাজেট শুধুমাত্র জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
এদিন তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান, শুধুমাত্র ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবমুখী উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়ার জন্য। বিশেষ করে যুব সমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সব মিলিয়ে, কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণের এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পক্ষ থেকে এই সমালোচনার কী জবাব দেওয়া হয় এবং আগামী দিনে বাজেটের বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হয়।