সদর মহকুমার অন্তর্গত কাঁঠালতলী গ্রাম পঞ্চায়েতের এক অসহায় পরিবারের করুণ আর্তি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। একমাত্র পুত্রের দৃষ্টিশক্তি ফেরাতে শেষ আশ্রয় হিসেবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন দিনমজুর সুনীল শীল।
জানা গেছে, কাঁঠালতলী পঞ্চায়েতের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুনীল শীল পেশায় একজন দিনমজুর। বহু বছর আগেই স্ত্রীকে হারিয়েছেন তিনি। এরপর থেকে দুই কন্যা ও একমাত্র পুত্রকে নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটছে তার।
মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোরকমে সংসার চালালেও ছেলের চিকিৎসার খরচ বহন করা তার পক্ষে ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠেছে।সুনীল শীলের একমাত্র ছেলে পলাশ শীল ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে চোখে আঘাত পায়।
সেই ঘটনার পর থেকেই ধীরে ধীরে তার দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করে। প্রথমে একটি চোখে সমস্যা দেখা দিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ছেলের চোখ ভালো করার আশায় সুনীল শীল রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন।
এমনকি বহিরাজ্যের গৌহাটি পর্যন্ত ছেলেকে নিয়ে গিয়েছেন চিকিৎসার জন্য। কিন্তু এত চেষ্টা সত্ত্বেও সন্তোষজনক ফল মেলেনি।বর্তমানে পলাশ শীলের বয়স ১৮ বছর। এখন তার দুই চোখেই গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি হাঁপানিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞদের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই জটিল চিকিৎসা ত্রিপুরায় সম্ভব নয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বহিরাজ্যের কোনো বড় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অপারেশন করাতে হবে।
তবেই হয়তো আবার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।চিকিৎসকদের এই পরামর্শ শোনার পর কার্যত ভেঙে পড়েন সুনীল শীল। ইতিমধ্যেই ছেলের চিকিৎসার জন্য নিজের সামর্থ্যের সবটুকু ব্যয় করেছেন তিনি।
এখন আর বহিরাজ্যে নিয়ে গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক ক্ষমতা তার নেই। ফলে একমাত্র ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে এই অসহায় বাবার।শনিবার সকালে সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়ে সুনীল শীল জানান, তিনি এলাকার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের কাছেও বহুবার সাহায্যের আবেদন করেছেন।
কিন্তু কোথাও থেকে কোনও ইতিবাচক সাড়া পাননি। তাই শেষ আশ্রয় হিসেবে তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাচ্ছেন, যেন তাঁর ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়।সুনীল শীলের কথায়, “আমি গরিব মানুষ, দিনমজুরির টাকায় সংসার চালাই।
ছেলের চিকিৎসার জন্য যা ছিল সব খরচ করে ফেলেছি। এখন আর কিছুই করার নেই। মুখ্যমন্ত্রী যদি সাহায্য করেন, তাহলে আমার ছেলে আবার দেখতে পাবে।”এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মহলে সহানুভূতির সুর শোনা যাচ্ছে।
অনেকেই মনে করছেন, সরকারের তরফ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে এক তরুণের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।এখন দেখার বিষয়, অসহায় এই পরিবারের আর্তি কত দ্রুত প্রশাসনের কানে পৌঁছায় এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সুনীল শীলের আবেদনকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন।