শালিসি বৈঠকের নামে ডেকে নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার কয়েকজনের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর জখম হয়ে ওই ছাত্র বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুধু ছাত্রই নয়, তাকে বাঁচাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন তার মা এবং বড় ভাইও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে কৈলাসহর মহকুমার গৌরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায়। আহত ছাত্রের নাম আব্দুল মুতলিব। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। তার মা নাজমা বেগম ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে একই এলাকার বাসিন্দা ইয়ামিছ আলীর ছেলে সাকিল আলীর সঙ্গে আব্দুল মুতলিবের সামান্য ঝগড়াঝাটি হয়। পরে দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে নেয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইয়ামিছ আলীর বড় ছেলে হোসেন আলী। তিনি নাজমা বেগমের কাছে জানতে চান কেন তাদের ছেলের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ বিকেলে একই এলাকার বাসিন্দা তালেব ঠাকুরের বাড়িতে একটি শালিসি বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী বিকেলে নাজমা বেগম একাই তালেব ঠাকুরের বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে তার ছেলে আব্দুল মুতলিবকে ডেকে আনতে বলেন, যাতে শালিসি বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করে মীমাংসা করা যায়।মায়ের কথা অনুযায়ী মুতলিব আলী তালেব ঠাকুরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু অভিযোগ, বাড়ির কাছে পৌঁছাতেই সাকিল আলী সহ কয়েকজন মিলে তার উপর হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে নাজমা বেগম ছুটে গিয়ে নিজের ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তখন উপস্থিত ইয়ামিছ আলী ও হোসেন আলী নাজমা বেগমের উপরও শারীরিক আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ।পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকার অন্যান্য বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল মুতলিব এবং নাজমা বেগমকে চিকিৎসার জন্য ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে মুতলিব আলী সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।এই ঘটনার পর নাজমা বেগম কৈলাসহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন ইয়ামিছ আলী, সাকিল আলী এবং আহাদ উল্যা।অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ইয়ামিছ আলী একজন সরকারি কর্মচারী এবং তিনি বর্তমানে কৈলাসহরের চন্ডীপুর ব্লকে কর্মরত রয়েছেন।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অভিযুক্তরা শাসক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে পুলিশ এখনো পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি তাদের গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রেও পুলিশ তৎপরতা দেখাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গৌরনগর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার বাসিন্দারা ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।স্থানীয় মহলের মতে, একটি সামান্য ঝগড়াঝাটি থেকে এভাবে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।