ত্রিপুরায় আসন্ন এডিসি নির্বাচন ও ধর্মনগর উপনির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার সিপিআই(এম) রাজ্য দফতরে অনুষ্ঠিত হলো দলের রাজ্য কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। একই দিনে বামফ্রন্টের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্টের আহ্বায়ক Manik Dey, সিপিআই রাজ্য সম্পাদক Milon Baidya, আরএসপি রাজ্য সম্পাদক Dipak Deb এবং সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক Jitendra Chaudhury।সাংবাদিক সম্মেলনে বামফ্রন্ট নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে শাসক দলের হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে অঢেল টাকা আসছে বলে অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে এই প্রলোভনে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে ধর্মনগর উপনির্বাচন ও এডিসি এলাকায় বামফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান বাম নেতারা।বামফ্রন্ট আহ্বায়ক মানিক দে বলেন, এডিসি এলাকায় একাধিক সময় অন্য দল ক্ষমতায় এলেও তা জনগণের সরাসরি ভোটে নয় বলেই তাদের দাবি। ১৯৯০ থেকে ২০০০ এবং ২০২১ সালে এডিসি অন্য দলের হাতে গেলেও জনগণের সমর্থন নয়, বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার দাবি, অধিকাংশ সময়ই এডিসিতে বামফ্রন্টই ক্ষমতায় ছিল এবং সেই সময় উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছিল।তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে এডিসি এলাকায় দুর্নীতি বেড়েছে। পেনশনারদের প্রাপ্য অর্থ সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, পানীয় জলের সংকট তীব্র হয়েছে। অনেক জায়গায় অনাহারের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি শিশু বিক্রি ও অনাহারে মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে আসন্ন নির্বাচনে বামফ্রন্ট লড়াই করবে।মানিক দে বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বামফ্রন্ট আবার এডিসিতে ক্ষমতায় আসতে চায়। সেই লক্ষ্যেই মঙ্গলবার এডিসি নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মনগর উপনির্বাচনে বামফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে অমিতাভ দত্তের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের আমলে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন কখনওই সম্ভব হয়নি। তাই নির্বাচন কমিশনকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।এদিকে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা আশাবাদী। তাই আগেভাগেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এখন প্রশাসনিক কাজ ছেড়ে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।জিতেন্দ্র চৌধুরী আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এডিসি এলাকায় অনিয়ম ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলছেন। একদিকে একটি দল আরেকটি দলের বিরুদ্ধে আঙুল তুলছে, অন্যদিকে উন্নয়নের নামে লুটপাট চলছে। তার দাবি, এটি আসলে লুটের ভাগ নিয়ে দুই দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব।তিনি জানান, বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে। অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তরুণ নেতৃত্ব—সবদিক বিবেচনা করেই প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছে।ধর্মনগরের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী প্রসঙ্গেও সরব হন তিনি। তার অভিযোগ, সেখানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন, কিন্তু অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ পর্যন্ত নথিভুক্ত করা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।বর্তমান পরিস্থিতিকে স্বৈরাচারী পরিবেশ বলে উল্লেখ করে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, বামফ্রন্টের হাতে কালো টাকা নেই, কিন্তু সাধারণ মানুষের সমর্থনের ওপর তাদের আস্থা রয়েছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কংগ্রেসসহ সব ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।এদিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা Rahul Gandhi-র “CPM + BJP মানে CJP” মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি ইস্যু নিয়েও বিরোধী দলনেতার বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বামফ্রন্ট নেতারা স্পষ্ট বার্তা দেন—আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে তারা সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে মাঠে নামবে এবং নৈরাজ্য ও অরাজকতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।