আসন্ন স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খোয়াই জেলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই জেলার সর্বস্তরে জোরদার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার খোয়াই জেলা শাসকের কনফারেন্স হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটির আয়োজন করেন খোয়াই জেলার জেলা শাসক রজত পন্থ।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা এবং নির্বাচন কমিশনের জারি করা বিধি-নিষেধ ও আইনি বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা।
জেলা শাসক রজত পন্থ বৈঠকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সকল আধিকারিককে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে। তিনি জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে এবং কোথাও যেন কোনও রকম গাফিলতি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে।
বৈঠকে জানা যায়, খোয়াই জেলায় মোট তিনটি স্বশাসিত জেলা পরিষদের আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই তিনটি আসন হলো— ৯ নম্বর হালাহালী-আশারামবাড়ী, ১২ নম্বর রামচন্দ্রঘাট এবং ১১ নম্বর মহারানী-তেলিয়ামুড়া।
ভোটার সংখ্যার নিরিখে ৯ নম্বর হালাহালী-আশারামবাড়ী আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৩৪,৬৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭,৫২৪ জন এবং মহিলা ভোটার ১৭,১০৪ জন। ১২ নম্বর রামচন্দ্রঘাট আসনে মোট ভোটার ৩০,৫১১ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫,২৪২ জন এবং মহিলা ভোটার ১৫,২৬৯ জন। অপরদিকে ১১ নম্বর মহারানী-তেলিয়ামুড়া আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩১,৭৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫,৮০০ জন এবং মহিলা ভোটার ১৫,৯৬৭ জন।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ এপ্রিল গোটা রাজ্যে স্বশাসিত জেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচিও ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, প্রার্থীদের ২৫ মার্চের মধ্যে নিজ নিজ রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। ২৬ মার্চের মধ্যে মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি সম্পন্ন করা হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ মার্চ।
এছাড়াও, ভোটগ্রহণের পর ১৭ এপ্রিল গণনা অনুষ্ঠিত হবে এবং ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সম্পূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়, ভোট চলাকালীন সময়ে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
এছাড়াও, ভোটকেন্দ্রগুলিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, ইভিএম মেশিনের সুরক্ষা, ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে মৌলিক সুবিধা যেমন পানীয় জল, শৌচাগার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
সবশেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলা শাসক রজত পন্থ জানান, নির্বাচনকে ঘিরে সমস্ত প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা হবে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়াই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
খোয়াই জেলার এই প্রস্তুতি বৈঠককে কেন্দ্র করে স্পষ্ট যে, প্রশাসন আসন্ন স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর এবং সেই লক্ষ্যে তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।