বর্তমান আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ধীরে ধীরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব এবার অনুভূত হচ্ছে রান্নার গ্যাসের বাজারেও। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন কিছু নিয়ম চালু হওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস বুকিং সংক্রান্ত নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় অনেক গ্রাহকই কিছুটা সমস্যার মুখে পড়ছেন। আগে তুলনামূলকভাবে সহজে গ্যাস বুকিং করা গেলেও এখন নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ধর্মনগরের ত্রিপুরেশ্বরী গ্যাস এজেন্সির কর্নধার নিরঞ্জিত সিনহা জানিয়েছেন, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি প্রতি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দামে ৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ কিছুটা বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন একজন গ্রাহক একটি গ্যাস সিলিন্ডার নেওয়ার পর পরবর্তী বুকিং করতে পারবেন অন্তত ২৫ দিন পর। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের আগে নতুন করে গ্যাস বুকিং করার সুযোগ থাকছে না। এই নিয়ম কার্যকর হওয়ায় অনেক গ্রাহককে আগে থেকেই গ্যাস ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
এদিকে গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থাও পুরোপুরি নির্ভর করছে বাইরের উৎসের উপর। ধর্মনগরের এই এজেন্সিতে গ্যাসের চাহিদা যথেষ্ট থাকলেও সরবরাহ আসে আসামের শিলচরের বটলিং প্ল্যান্ট থেকে। সেখান থেকেই প্রতিদিন এক থেকে দুটি গাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার ধর্মনগরে পৌঁছায়।
ফলে অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছেন এজেন্সি কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে উৎসবের সময় বা চাহিদা বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়াও এজেন্সির গোডাউনে একসঙ্গে বেশি সংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নিরাপত্তা বিধি এবং স্থানসংকটের কারণে খুব বেশি সিলিন্ডার মজুত রাখা যায় না। ফলে সরবরাহ এলেই তা দ্রুত গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করতে হয়।
এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, গোডাউনে সীমিত সংখ্যক সিলিন্ডার সংরক্ষণ করা সম্ভব। এর মধ্যে আবার সরকারি ও জরুরি পরিষেবার জন্য কিছু সিলিন্ডার আলাদা করে রাখতে হয়। হাসপাতাল বা অন্যান্য জরুরি পরিষেবার কথা মাথায় রেখে এই ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক।
ফলে যে সংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার এজেন্সিতে আসে, তার বেশিরভাগই দ্রুত সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ হয়ে যায়। অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত রাখার সুযোগ না থাকায় অনেক সময় গ্রাহকদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হয়।
এই পরিস্থিতিতে অনেক সাধারণ গ্রাহকই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহে অনিশ্চয়তা থাকলে সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলির উপর এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে।
তবে এজেন্সি কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উপর নির্ভরশীল। যত সংখ্যক সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়, তার ভিত্তিতেই গ্রাহকদের মধ্যে তা বণ্টন করা সম্ভব হয়।
সব মিলিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, নতুন বুকিং নিয়ম এবং সীমিত সরবরাহ—এই তিনটি বিষয় এখন সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।