ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া হিংসাত্মক ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী রাজ্যে অবিলম্বে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনোভাবেই সন্ত্রাস ও হিংসার স্থান নেই। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।জিতেন্দ্র চৌধুরী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ মানিক সাহা এবং বিজেপির প্রদেশ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এসব বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। তিনি দাবি করেন, শাসক দলের পক্ষ থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে বিরোধী দলগুলির কর্মী-সমর্থকরা আক্রমণের শিকার হয়ে আসছেন। বহু পরিবার তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে, দোকানপাট ভাঙচুর হয়েছে, যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একাধিক দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের একটি বিস্তারিত তালিকা একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্য সচিবের কাছে জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়নি। অথচ সাম্প্রতিক ঘটনায় শাসক দলের কর্মী-সমর্থকদের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে দ্রুত ত্রাণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে দাবি করেন তিনি।জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, “ত্রাণ যদি দেওয়া হয়, তাহলে তা সকল ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের জন্য আলাদা সুবিধা দেওয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।”এছাড়াও, এডিসি নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর করা কিছু মন্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক’ বলে অভিহিত করে তিনি দাবি করেন, এই ধরনের বক্তব্যই বর্তমান অশান্ত পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করেছে। সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকেই দায়ী করেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিবেশ বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। একদিকে শাসক দল ও বিরোধীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে হিংসার ঘটনা—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।এই প্রেক্ষাপটে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। পাশাপাশি, সকল রাজনৈতিক দলকেই সংযম বজায় রেখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করার আহ্বান জানানো হয়েছে।পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন সময়ই বলবে। তবে আপাতত রাজ্যের মানুষ চাইছেন—হিংসা নয়, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসুক ত্রিপুরায়।