দক্ষিণ ত্রিপুরার জোলাইবাড়ী এলাকায় একই দিনে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দু’জন। ঘটনায় গোটা এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক প্রবীণ ব্যক্তি এবং এক মধ্যবয়স্ক মহিলা।
উভয় ঘটনাই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে।প্রথম ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেলের দিকে জোলাইবাড়ী সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে জাতীয় সড়কে। জানা গেছে, মুহুরীপুর শঙ্গরপুর এলাকার বাসিন্দা ভূষন দাস (৬০) কাজ সেরে কাকুলিয়া এলাকা থেকে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন।
সেই সময় শান্তির বাজার দিক থেকে সাব্রুমগামী একটি দ্রুতগামী গাড়ি (নম্বর: TR 08 E 0683) তাকে সজোরে ধাক্কা মারে।ধাক্কার জেরে তিনি সাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে রাস্তায় গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত জোলাইবাড়ী দমকল বাহিনীকে খবর দেন। দমকল কর্মীরা এসে তাকে উদ্ধার করে জোলাইবাড়ী সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বাইখোড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভেঙে পড়ার দৃশ্য এলাকাবাসীকে ব্যথিত করে তোলে।
অন্যদিকে, একই দিনে সন্ধ্যা প্রায় ৬টার সময় জোলাইবাড়ীর সাগরডেপা এলাকায় আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রাণ হারান ললিতা ত্রিপুরা (৪২) নামে এক মহিলা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি একটি নতুন মোটরবাইকে চড়ে যাচ্ছিলেন। আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক থেকে ছিটকে পড়ে যান তিনি।মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
পরে তাকে জোলাইবাড়ী সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাতেও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকদের মতে, দুই ক্ষেত্রেই মাথায় গুরুতর আঘাতই মৃত্যুর প্রধান কারণ।
পুলিশ উভয় ঘটনাতেই তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে এই দুর্ঘটনাগুলি ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, জোলাইবাড়ী এলাকায় জাতীয় সড়কে বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল প্রায়শই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একই দিনে দুটি প্রাণহানির ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে।
তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।একই দিনে পরপর দুইটি প্রাণহানির ঘটনায় জোলাইবাড়ী কার্যত স্তব্ধ। শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রতিবেশীরা। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আর কত প্রাণ গেলে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে?