নির্বাচনোত্তর সহিংসতার অভিযোগে উত্তপ্ত সিপাহীজলা জেলা এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার জেলা সফরে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দিনভর বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে তিনি সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন এবং আক্রান্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনিক সূত্রে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হলেও মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।এদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে সোনামুড়া মহকুমার বিজয়নগর এলাকায় পৌঁছান। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই এলাকায় একাধিক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী এবং পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।এরপর মুখ্যমন্ত্রী বিশালগড় মহকুমার একাধিক স্পর্শকাতর এলাকা—রামনগর, আমতলী এবং লুঙ্গতাংছড়া পরিদর্শন করেন। প্রতিটি এলাকাতেই তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন। অনেক পরিবারই অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে এখনও আতঙ্কের পরিবেশ কাটেনি। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, তবুও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজিপি), সিপাহীজলা জেলার জেলা শাসক, জেলা পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মহকুমা শাসকরা। তাঁদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। প্রশাসনিক স্তরে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।পরিদর্শন চলাকালীন গোটা এলাকাজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে, যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আক্রান্ত পরিবারগুলির মধ্যে এখনও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলেই দাবি। যদিও প্রশাসনের এই তৎপরতায় কিছুটা আশ্বাস পেয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।তবে এত গুরুত্বপূর্ণ সফর সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করেননি। বিষয়টি নিয়ে তাঁর নীরবতা রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া উচিত ছিল সরকারের। অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপই এখন মূল লক্ষ্য।প্রশাসনের তরফ থেকেও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও কিছুটা বেড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।উল্লেখ্য, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সিপাহীজলা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের পদক্ষেপে পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপত্তা ফিরে পান।