‘ধন্বন্তরি স্কিল ইউনিভার্সিটি’ প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত চতুর্থ বিল বিধানসভায় পেশ হওয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিলটি উপস্থাপনের পরই কড়া আপত্তি জানান বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, যিনি সরকারের এই উদ্যোগকে “মানবসম্পদ ধ্বংসের পথে পদক্ষেপ” বলে আখ্যা দেন।বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যেই শিক্ষা সংক্রান্ত একাধিক বিল পাশ করেছে এবং তার পরেও নতুন করে আরও একটি বিল আনা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।জিতেন্দ্র চৌধুরী বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সেই সব সংস্থাকে নিয়ে, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে ছাত্রদের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, এমন সংস্থাগুলিকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, “যে প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের হাতে উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব দেওয়া মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া।”বিরোধী দলনেতার মতে, সরকার দক্ষতা উন্নয়নের নামে যে উদ্যোগ নিচ্ছে, তা বাস্তবে রাজ্যের মানবসম্পদ বিকাশে সহায়ক হবে না, বরং উল্টে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।স্টার্ট-আপ সংস্কৃতি প্রসঙ্গেও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার যদি সত্যিই উদ্ভাবন ও উদ্যোগকে উৎসাহ দিতে চায়, তবে রাজ্যের নিজস্ব শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের এগিয়ে আসার সুযোগ করে দেওয়া উচিত। তাঁদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা গেলে তা আরও কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য হবে বলে মত তাঁর।এছাড়াও তিনি রাজ্যের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বেসরকারি কলেজে বিপুল অর্থের বিনিময়ে পেশাগত কোর্স করানো হলেও সেই ডিগ্রিগুলির চাকরির বাজারে তেমন মূল্য নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং প্রত্যাশিত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।এই প্রেক্ষাপটে ‘ধন্বন্তরি স্কিল ইউনিভার্সিটি’ বিলকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, শিক্ষানীতি ও বেসরকারি বিনিয়োগের প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের এই মতপার্থক্য আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে।