গ্রামীণ এলাকায় সুপেয় পানীয়জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে পানীয়জল ও স্বাস্থ্যবিধান দপ্তর ‘মিশন মোডে’ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।মঙ্গলবার বিধানসভায় বিধায়ক শম্ভুলাল চাকমার উত্থাপিত এক দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গভীর নলকূপ, স্বল্প ব্যাসের নলকূপ, সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং উদ্ভাবনী প্রকল্পের মাধ্যমে পানীয়জল সরবরাহ করা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভূগর্ভস্থ জলের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে সরকার এখন সারফেস ওয়াটার বা ভূপৃষ্ঠের জলের ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নদী, ছড়া, জলাধার এবং ঝর্ণার জলকে কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রকল্পের কাজও চলছে।তিনি আরও জানান, এই ধরনের প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নে খরচ বেশি এবং সময়ও কিছুটা বেশি লাগে। তবুও ‘জল জীবন মিশন’-এর আওতায় সরকার এই উদ্যোগগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে পানীয়জল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বছরে যে পরিমাণ ভূগর্ভস্থ জল পাওয়া যায়, তার মাত্র ১০.০৬ শতাংশ বর্তমানে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, জল সংরক্ষণ ও সুষম ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্য এখনও একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।বর্তমানে রাজ্যে মোট ১৫৪টি সারফেস ওয়াটার ভিত্তিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও ইনোভেটিভ প্রকল্প চালু রয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় রয়েছে ১৩৬টি এবং শহরাঞ্চলে ১৮টি। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বহু এলাকায় নিয়মিত পানীয়জল সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।এছাড়াও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক ও শহরাঞ্চলে নতুন করে একাধিক ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহর এলাকায় একটি এবং গ্রামীণ এলাকায় ৭১টি নতুন প্ল্যান্ট তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।এই নতুন প্রকল্পগুলির মধ্যে সাব্রুম, দশদা, জম্পুইহিল, লালজুরি, কদমতলা, কলাছড়া, পেঁচারথল, কুমারঘাট, আমবাসা, ছামনু, ডম্বুরনগর, গঙ্গানগর, মনু, দুর্গাচৌমুহনি, মুঙ্গিয়াকামী, সাতচাঁদ, পোয়াংবাড়ি, জম্পুইজলা, কাকড়াবন, মাতাবাড়ি, কিল্লা, অমরপুর এবং করবুক ব্লকের নাম উল্লেখ করেন তিনি। এসব এলাকায় ধাপে ধাপে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করা হবে।এর পাশাপাশি আরও ২৭টি নতুন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে দশদা, লালজুরি, ছামনু এবং মনু ব্লকে অতিরিক্ত প্রকল্প নেওয়ার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগগুলি বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ এলাকায় পানীয়জল সংকট অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।সরকারের এই উদ্যোগকে গ্রামীণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সারফেস ওয়াটারের উপর নির্ভরতা বাড়ালে একদিকে যেমন ভূগর্ভস্থ জলের স্তর রক্ষা পাবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে জল সংকট মোকাবিলায়ও সহায়তা করবে।সব মিলিয়ে, রাজ্য সরকার গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানীয়জল সরবরাহে যে রূপরেখা তৈরি করেছে, তা বাস্তবায়িত হলে আগামী দিনে এই খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। এখন নজর থাকবে প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের উপর।