ঊনকোটি জেলার কৈলাসহর মহকুমায় এক জনজাতি মহিলার গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, এক পরিচিত ব্যক্তি কৌশলে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল ও মানসিক হয়রানি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এত গুরুতর অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরও পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রশাসনের ভূমিকা।
ভুক্তভোগী ওই জনজাতি মহিলা (৩৬) ফটিকরয় থানাধীন ডেমডুং পাড়ার বাসিন্দা। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, কুমারঘাটের রাজকান্দি পাড়ার বাসিন্দা প্রদীপ দেববর্মা নামের এক ব্যক্তি পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে তাকে কৌশলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করার পাশাপাশি তার অজান্তেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বারবার ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন ওই মহিলা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে সেই ভিডিও দেখিয়ে তাকে মানসিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছিল এবং নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছিল। বিষয়টি সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে তিনি শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কৈলাসহর মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে তদন্তে জানা যায়, ঘটনাস্থল ফটিকরয় থানার অন্তর্গত হওয়ায় কৈলাসহর মহিলা থানা একটি জিডি এন্ট্রি করে অভিযোগের কপি ফটিকরয় থানায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর থেকেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পড়ে ফটিকরয় থানার ওপর।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৪ মার্চ ফটিকরয় থানার পুলিশ তার কাছ থেকে পুরো ঘটনার বিস্তারিত শুনে অভিযুক্তকে দ্রুত আটক করে তদন্ত শুরু করার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা তো দূরের কথা, তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী মহিলা ও তার পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, অভিযুক্ত প্রদীপ দেববর্মা এবং তার কয়েকজন সহযোগী গতকাল রাত থেকেই মহিলার বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ না তুললে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এর ফলে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন ওই মহিলা ও তার পরিবার। ভুক্তভোগীর প্রশ্ন— এত গুরুতর অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরও কেন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ? কেন তাকে এখনও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না?
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, একজন মহিলার ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও যদি পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে ভুক্তভোগী মহিলার পরিবারও দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে।
এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— অভিযোগ থাকার পরও কেন নীরব ফটিকরয় থানা? পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসন কত দ্রুত এই অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।