ত্রিপুরায় আধুনিক ও উদ্ভাবনী সবজি চাষের সম্ভাবনা বাড়াতে নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত দিল বারাণসীস্থিত ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (আইসিএআর)-এর অধীনস্থ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ভেজিটেবল রিসার্চ (আইআইভিআর)। ‘পোমাটো’ ও ‘ব্রিমাটো’ নামে পরিচিত বিশেষ ধরনের গ্রাফটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবজি চাষের বিষয়ে ত্রিপুরার কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বীজ সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।মঙ্গলবার বারাণসীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আইআইভিআর-এর অধিকর্তা ড. রাজেশ কুমার এই আগ্রহের কথা জানান। তিনি বলেন, ত্রিপুরা সরকার যদি এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়, তাহলে কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের পাশাপাশি উন্নতমানের বীজ সরবরাহ করতেও আইআইভিআর প্রস্তুত রয়েছে।ড. কুমার জানান, গ্রাফটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এক গাছ থেকে একসঙ্গে দুই ধরনের সবজি উৎপাদন সম্ভব। যেমন ‘পোমাটো’ পদ্ধতিতে একটি গাছ থেকেই আলু ও টমেটো উৎপাদন করা যায়, আবার ‘ব্রিমাটো’ প্রযুক্তিতে একই গাছ থেকে বেগুন ও টমেটো পাওয়া যায়। কৃষি গবেষকদের মতে, এই ধরনের প্রযুক্তি কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করতে পারে।ত্রিপুরায় কৃষির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরায় কৃষিক্ষেত্রে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের মাটি উর্বর এবং কৃষকরাও পরিশ্রমী। তবে জাতীয় গড়ের তুলনায় এখানকার কৃষি উৎপাদনশীলতা এখনও কম। তাই শুধু ধান চাষের ওপর নির্ভর না করে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের দিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।ড. কুমারের মতে, সবজি চাষে বৈচিত্র্য আনলে কৃষকদের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি তাদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি বাজারে ভোক্তাদের জন্যও বিভিন্ন ধরনের সবজি সহজলভ্য হবে। তিনি বলেন, তুলনামূলক স্বল্প সময়ের মধ্যেই সবজি চাষ থেকে ভালো উৎপাদন পাওয়া সম্ভব, যা কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করতে পারে।তিনি আরও জানান, আইআইভিআর-এর উদ্যোগে ‘কিচেন গার্ডেন’ কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষের প্রবণতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় দশ ধরনের সবজির বীজ সম্বলিত একটি বিশেষ প্যাকেট সরবরাহ করা হয়, যাতে একটি পরিবার সহজেই নিজেদের প্রয়োজনীয় সবজি উৎপাদন করতে পারে।ড. কুমার বলেন, বৈজ্ঞানিক হাইব্রিড প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত মানের সবজির জাত তৈরি করা হয়েছে, যা ত্রিপুরার মতো উর্বর মাটিতে ভালো ফলন দিতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই উন্নত মানের বীজের অভাব কৃষকদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যার সমাধানে আইআইভিআর রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে আগ্রহী।তিনি বলেন, যদি ত্রিপুরা সরকার নির্দিষ্ট কিছু সবজির উন্নতমানের বীজ বড় পরিমাণে চায়, তাহলে আইআইভিআর সেই বীজ সরবরাহে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি কৃষকদের বীজ উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবেই উন্নতমানের বীজ উৎপাদন সম্ভব হবে।ভারত সরকারের নর্থ ইস্টার্ন হিল (এনইএইচ) কম্পোনেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় আইআইভিআর ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। ড. কুমার জানান, ত্রিপুরার কৃষক প্রতিনিধিরা চাইলে বারাণসীতে এসে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন।তবে ‘পোমাটো’ ও ‘ব্রিমাটো’ প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, এই পদ্ধতিগুলি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং বড় আকারে কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োগের আগে আরও গবেষণা চলছে। ত্রিপুরা থেকে এখনও পর্যন্ত কেউ এই বিষয়ে প্রশিক্ষণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করেননি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রস্তাব এলে আইআইভিআর সর্বাত্মক সহায়তা করতে প্রস্তুত।উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের লখনউ, অযোধ্যা ও বারাণসী সফর উপলক্ষে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক মিডিয়া ট্যুরে অংশ নিয়ে ত্রিপুরার সাংবাদিকরা বারাণসীর আইআইভিআর পরিদর্শন করেন। সেই সময় ড. রাজেশ কুমার ও তাঁর গবেষক দলের সঙ্গে কৃষি প্রযুক্তি ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।