মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে বিরোধী পক্ষের কটাক্ষ ও কুরুচিকর মন্তব্যের প্রসঙ্গে সংযমী কিন্তু দৃঢ় বার্তা দিলেন প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, গালির জবাব কখনোই পাল্টা গালি বা হিংসাত্মক ভাষায় দেওয়া উচিত নয়, বরং উন্নয়নমূলক কাজ ও জনসেবার মাধ্যমেই তার উপযুক্ত উত্তর দিতে হবে।রবিবার মোহনপুরে এক দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রাজীব ভট্টাচার্য এই মন্তব্য করেন। মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহাকে লক্ষ্য করে মথার পক্ষ থেকে করা কটাক্ষ ও গালাগাল প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি কখনোই অশালীন ভাষা বা নেতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। বিজেপি কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করে এবং সেই পথেই দল এগিয়ে যাবে।নিজের বক্তব্যে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টি ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতিকে সামনে রেখে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিজেপির রাজনীতিতে জাতপাত বা বিভেদের কোনো স্থান নেই। সমাজের সব স্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাওয়াই দলের প্রধান লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, বিজেপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যা কেবল নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছর ধরে মানুষের পাশে থাকে। সাধারণ মানুষের সমস্যা, চাহিদা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়েই দল তার কর্মসূচি গ্রহণ করে। এই কারণেই বিজেপির প্রতি মানুষের আস্থা দিন দিন আরও দৃঢ় হচ্ছে বলে তাঁর দাবি।এদিনের কর্মসূচিতে পৃষ্ঠা প্রমুখদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন রাজীব ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, পৃষ্ঠা প্রমুখরাই বিজেপির প্রকৃত শক্তি এবং সংগঠনের মেরুদণ্ড। তৃণমূল স্তরে দলের বার্তা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব মূলত পৃষ্ঠা প্রমুখদের হাতেই থাকে।২০১৮ সালে ত্রিপুরায় যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছিল, তার নেপথ্যে পৃষ্ঠা প্রমুখদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, সেই সময় পৃষ্ঠা প্রমুখরা নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে বিজেপিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন, যার ফলস্বরূপ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল সম্ভব হয়েছিল।শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও পৃষ্ঠা প্রমুখদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সুদৃঢ় সংগঠনের জোরেই বিজেপি পুনরায় সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে বলে দাবি করেন প্রদেশ সভাপতি। তিনি বলেন, দলীয় কর্মীদের ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, বিজেপি শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের দিকেও সমানভাবে নজর দিচ্ছে। তাঁর বিশ্বাস, আগামী ২০২৮ সালেও দেবতুল্য পৃষ্ঠা প্রমুখদের হাত ধরেই ত্রিপুরায় আবার ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এই লক্ষ্যে এখন থেকেই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কাজ শুরু হয়েছে।তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সংযম, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। বিরোধীদের কটাক্ষ বা কুৎসা নিয়ে উত্তেজিত না হয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করাই বিজেপির রাজনৈতিক দর্শন। কাজের ফলই শেষ পর্যন্ত সব প্রশ্নের জবাব দেবে।রাজীব ভট্টাচার্যের এই বক্তব্যে কর্মসূচিতে উপস্থিত দলীয় কর্মী ও পৃষ্ঠা প্রমুখদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সংগঠনকে আরও মজবুত করা এবং উন্নয়নের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়েই মোহনপুরের এই দলীয় কর্মসূচি শেষ হয়।