ত্রিপুরায় কৃষি উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি—এ কথা উল্লেখ করে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, “আমাদের রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি কৃষি খাতই।”
লেম্বুছড়াস্থিত ত্রিপুরা কৃষি কলেজের অডিটোরিয়ামে রবিবার রবি পেঁয়াজ চাষ বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, কৃষি, উদ্যানপালন এবং মৎস্যচাষসহ সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে। বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারই উৎপাদন বাড়ানোর মূল উপায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানান, গত সাত বছরে কৃষিযন্ত্র কেনার জন্য ২২৫ কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণের সুবিধা বাড়াতে ১৪৪টি নতুন বাজার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০৩ কোটি টাকা। বর্তমানে রাজ্যের মোট জিএসডিপি’র প্রায় ৪৬ শতাংশই কৃষিক্ষেত্র নির্ভর।
পেঁয়াজ চাষের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ত্রিপুরার জলবায়ু রবি পেঁয়াজ চাষের পক্ষে আদর্শ। কৃষি কলেজের বিজ্ঞানীরা পরীক্ষামূলক চাষে ইতোমধ্যেই সফলতা পেয়েছেন। তাই আরও বেশি কৃষককে এই চাষে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ত্রিপুরা কৃষি কলেজের অধ্যক্ষ ড. দেবাশিষ সেন। উপস্থিত ছিলেন হর্টিকালচার ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ দপ্তরের অধিকর্তা দীপক কুমার দাস, নাবার্ডের জেনারেল ম্যানেজার অনিল কটমিরে, আইসিআর’র আইএসসি সদস্য প্রদীপ বরণ রায়সহ বিশিষ্টজনেরা।
রাজ্যের আট জেলার প্রায় ৩০০ জন পেঁয়াজ চাষির অংশগ্রহণে আয়োজিত কর্মশালায় কৃষকদের হাতে বীজ, স্পেয়ার পার্টস, জৈবসার, কেঁচো সার, ছত্রাকনাশক, কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি–উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। দু’জন কৃষককে সয়েল হেলথ কার্ডও প্রদান করা হয়।