দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তির বাজার মহকুমায় রবিবার সন্ধ্যা থেকে ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। প্রবল ঝড় ও দমকা হাওয়ার কারণে শান্তির বাজার নতুন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি বড় গাছ উপড়ে পড়ে জাতীয় সড়কের ওপর। ফলে দীর্ঘ সময়ের জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল এবং বিপাকে পড়েন নিত্যযাত্রী ও জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।
জানা যায়, জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর দ্রুত প্রশাসনের কাছে পৌঁছালেও শান্তির বাজার মহকুমার ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এই ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। পরে বগাফা ফরেস্ট রেঞ্জের কিছু কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাদের আনা যন্ত্রপাতির অধিকাংশই অকেজো ছিল বলে অভিযোগ।
আশপাশের মানুষ জানান, বনদপ্তরের কর্মীরা কিছু যন্ত্র নিয়ে এলেও সেগুলি কার্যকর না হওয়ায় গাছ সরানোর কাজ শুরুই করা যায়নি। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দপ্তরের কর্মীরা যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই ঘটনাস্থলে এসে কার্যত দায়সারা ভূমিকা পালন করেছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দক্ষিণ জেলার বন দপ্তরের এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বগাফা ফরেস্ট রেঞ্জের কর্মীদের বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়ম ও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ নতুন করে সামনে আসছে।
তবে এই অচলাবস্থা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় শান্তির বাজার দমকল বাহিনী। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা গাছ কেটে সরানোর কাজ শুরু করে।
এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
কালবৈশাখীর এই তাণ্ডব শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতাই নয়, প্রশাসনিক প্রস্তুতির ঘাটতিকেও সামনে এনে দিয়েছে। এখন দেখার, এই ঘটনার পর কতটা সক্রিয় হয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।