কুমারঘাটের বেতছড়া গ্রামীণ ব্যাংকের একটি শাখায় গ্রাহক হয়রানির অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। এক বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট তুলতে গিয়ে এক গ্রাহককে অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং পরবর্তীতে নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারী সৌমিত্র সরকার, কুমারঘাটের রতিয়াবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জানান, নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গত এক বছরের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার পক্ষ থেকে তার কাছে ২৬০০ টাকা দাবি করা হয়। বাধ্য হয়ে তিনি ধার করে সেই টাকা পরিশোধ করেন বলে দাবি করেন।তবে টাকা জমা দেওয়ার পরই সমস্যার সূত্রপাত। সৌমিত্র সরকারের অভিযোগ, নির্ধারিত পরিষেবা পাওয়ার পরিবর্তে তিনি বারবার হয়রানির শিকার হন। প্রথমে তাকে একটি ব্ল্যাঙ্ক স্লিপ দেওয়া হয়, যেখানে কোনও অফিসিয়াল সিল বা স্বাক্ষর ছিল না। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক কোনও উত্তর মেলেনি বলেই দাবি তার।পরবর্তীতে নিজের জমা দেওয়া অর্থ ফেরত চেয়ে আবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তখন ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাকে আরও একটি স্লিপ দেওয়া হয়, যেখানে অন্য একটি অ্যাকাউন্ট নম্বর উল্লেখ ছিল এবং তাতে সিল-স্বাক্ষর দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে গ্রাহকের হাতে তিনটি পৃথক স্লিপ তুলে দেওয়া হয়, যা নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বেড়ে যায়।দিনভর লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সঠিক পরিষেবা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সৌমিত্র সরকার শেষ পর্যন্ত কুমারঘাট থানার দ্বারস্থ হন। তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই ব্যাংকের গ্রাহক এবং ব্যাংক প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই তার অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে এমন অভিজ্ঞতা তাকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে।এই ঘটনায় স্থানীয় মহলেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ব্যাংক পরিষেবার মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে। গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি, সঠিক রসিদ প্রদান না করা এবং পরিষেবা দিতে গড়িমসি—এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয় বলেই মত একাংশের। তবে এ ধরনের ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।অন্যদিকে, অভিযুক্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের প্রাপ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল।