ত্রিপুরা স্ব-শাসিত জেলা পরিষদ (এ.ডি.সি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শুক্রবার ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তিপ্রা মথা দলের জয়ের খবর সামনে আসে, তবে এর পরপরই একাধিক এলাকায় সহিংসতা, ভাঙচুর এবং আতঙ্কের অভিযোগ উঠে আসছে।বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগ, বাড়িঘর ভাঙচুর, রাজনৈতিক কর্মীদের উপর হামলা এবং বাজার বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনার খবর সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নির্বাচনের আগে তিপ্রা মথা নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আশ্বাস দেওয়া হলেও, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।বিশেষ করে তেলিয়ামুড়া মহারানীপুর এ.ডি.সি আসনের অন্তর্গত তুইমধু এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় বসবাসকারী বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার জেলা সভাপতি রশিদ মিয়া অভিযোগ করেছেন যে, একাংশ তিপ্রা মথা কর্মী-সমর্থকরা তার বাড়িতে হামলা চালায় এবং লুটপাট করে। ঘটনার জেরে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়িছাড়া হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন। পাশাপাশি জানা গেছে, এলাকায় অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন বিজেপি কর্মী নিরাপত্তার অভাবে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।এছাড়াও তুইমধু এলাকায় বিজেপির একটি পার্টি অফিস ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় সড়কের পাশে অবস্থিত চাকমাঘাট বাজারে বিজেপির কৃষ্ণপুর মণ্ডল কার্যালয় নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় একাংশের অভিযোগ, রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার কিছু বক্তব্য নির্বাচনের আগে উত্তেজনা বাড়িয়েছিল, যা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আংশিকভাবে দায়ী হতে পারে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য যাই থাকুক না কেন, নির্বাচনোত্তর সহিংসতার ঘটনাগুলি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসনের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন মহল থেকে একটাই বার্তা উঠে আসছে—গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পর সহিংসতা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, এবং অবিলম্বে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে।