ত্রিপুরায় এডিসির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে শপথগ্রহণ থেকে বিরত থাকছেন বিজেপির নির্বাচিত চারজন জনপ্রতিনিধি।
তবে জানা গেছে এটি স্থায়ী সিদ্ধান্ত নয়—পরবর্তী সময়ে তারা শপথ নেবেন বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।রেবতী ত্রিপুরার দাবি, এই সিদ্ধান্ত কোনও ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক কারণে নয়, বরং নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রতিবাদ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এডিসি নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার প্রতিবাদ জানাতেই এই বয়কট।
এদিন রেবতি ত্রিপুরা বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান রেখেই আমরা নির্বাচন করেছি, কিন্তু পরবর্তী সময়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগজনক। সেই কারণেই আপাতত শপথ নিচ্ছেন না আমাদের প্রতিনিধিরা।”এদিন তিনি এডিসি প্রশাসনের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনে দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিশেষ করে নির্বাচনের সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল। তাঁর অভিযোগ, কোনও রকম পূর্ব ঘোষণা বা নির্দিষ্ট নিয়ম না মেনেই গোপনে এই নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক অনিয়মের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
রেবতী ত্রিপুরা আরও বলেন, “যে কোনও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এখানে তা মানা হয়নি বলে আমাদের কাছে একাধিক অভিযোগ এসেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।”এই পরিস্থিতিতে বিজেপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই রাজ্যপালের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে গোটা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও তোলা হয়েছে। তাঁর কথায়, “সত্য সামনে আসা জরুরি। তাই আমরা চাই, একটি নিরপেক্ষ সংস্থা এই ঘটনাগুলির তদন্ত করুক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এদিকে, বিজেপির এই বয়কটের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশ এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক কৌশল বলে মনে করছে, অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব এটিকে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এডিসির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় এই ধরনের পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
শপথগ্রহণ বিলম্বিত হওয়ায় প্রশাসনিক কাজেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। এডিসির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই নতুন বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।