গুরগাঁওয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে নৃশংস নির্যাতনের শিকার হওয়া ত্রিপুরার এক ছাত্রীর ঘটনার প্রতিবাদে সরব হলো ত্রিপুরা প্রদেশ মহিলা কংগ্রেস। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কংগ্রেস ভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা দাহ করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।এদিন বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ত্রিপুরা প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সর্বাণী ঘোষ চক্রবর্তী বলেন, দিল্লি-সহ দেশের একাধিক রাজ্যে আজ নারীদের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও নারীদের উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসছে, যা গোটা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। গুরগাঁওয়ে ত্রিপুরার ছাত্রীটির উপর যে নির্মম অত্যাচার হয়েছে, তা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির করুণ চিত্র তুলে ধরছে।তিনি আরও বলেন, এই ধরনের নৃশংস ঘটনার পরও সরকার যদি নীরব থাকে বা দেরিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে অপরাধীদের মনোবল আরও বাড়বে। তাই অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্যাতিতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করারও জোরালো দাবি জানান তিনি।সভানেত্রীর অভিযোগ, নারীদের উপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা রোধে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণেই একের পর এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তিনি বলেন, শুধু গুরগাঁও নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং ত্রিপুরাতেও একই ধরনের জঘন্য অপরাধ ঘটছে, যা সরকারের ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করে।বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। রাস্তায়, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে—সর্বত্রই নারীরা আজ অনিরাপদ বোধ করছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি, কিন্তু তা দেখা যাচ্ছে না বলেই অভিযোগ।প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের নেত্রী আরও বলেন, নারীদের সুরক্ষার জন্য শুধু কঠোর আইন থাকলেই হবে না, সেই আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। অপরাধের পর দ্রুত তদন্ত, যথাযথ চার্জশিট দাখিল এবং সময়বদ্ধ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত না হলে ন্যায়বিচার অধরাই থেকে যাবে। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের জবাবদিহি বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন।তিনি দাবি করেন, সরকারের উচিত অবিলম্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা। পাশাপাশি, নির্যাতিতার পরিবারকে সবরকম আইনি ও মানসিক সহায়তা প্রদান করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য নেত্রী ও কর্মীরাও একই সুরে সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁদের মতে, নারীদের উপর বাড়তে থাকা সহিংসতা কেবল আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, বরং সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। তাই এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।সব মিলিয়ে, গুরগাঁওয়ে ত্রিপুরার ছাত্রীকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে, তা নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ সৃষ্টি করেছে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য, যতদিন না পর্যন্ত নারীরা নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারবেন, ততদিন এই ধরনের প্রতিবাদ চলবে। সরকারের কাছে তাঁদের একটাই দাবি—কথার প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।