একদিকে আগরতলা জিবিপি হাসপাতালের মর্গে পড়ে রয়েছে এক বৃদ্ধের নিথর দেহ, অন্যদিকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে তার সারা জীবনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়—এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা। অথচ নেই কোনো দাবিদার, নেই কোনো আত্মীয়ের খোঁজ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্রামগঞ্জ এলাকায়।
মৃত ব্যক্তির নাম আব্দুল আউয়াল মিয়া। জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে বিশ্রামগঞ্জ গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় তিনি একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। ব্যাংক সূত্রে খবর, ২০১৫ সালে শেষবার তিনি ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা তুলেছিলেন। তারপর আর কোনো লেনদেন হয়নি।
বর্তমানে সেই অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিষয়টি সামনে আসতেই তদন্ত শুরু করে বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশ। তদন্তের দায়িত্বে থাকা সাব-ইন্সপেক্টর শান্তি বাও ত্রিপুরা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সাহায্য চেয়েছেন, যাতে আব্দুল আউয়াল মিয়ার কোনো আত্মীয়স্বজন বা ওয়ারিশদারের খোঁজ পাওয়া যায়।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ব্যাংকের নথিতে ঠিকানা হিসেবে শুধুমাত্র “বিশ্রামগঞ্জ” লেখা রয়েছে। ফলে তার পরিচয় শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধ বয়সে তিনি আগরতলার বিটার বন মসজিদ এলাকায় বসবাস শুরু করেন।
সেখানেই গত ২০ এপ্রিল ২০২৬ তার মৃত্যু হয়।কিন্তু মৃত্যুর ২৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কেউ তার দেহ দাবি করতে আসেননি। ফলে জিবি হাসপাতালের মর্গেই পড়ে রয়েছে তার মরদেহ।একজন মানুষের সারাজীবনের সঞ্চয় আজ নীরবে অপেক্ষা করছে তার আপনজনের জন্য।