ত্রিপুরার পাহাড়ি অঞ্চলে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট দূর করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। বিদ্যুৎ দপ্তর ও ট্রেডার যৌথ প্রচেষ্টায় সৌরশক্তিনির্ভর মাইক্রোগ্রিড প্রকল্পের মাধ্যমে এমন সব এলাকায় আলো পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে এখনও পর্যন্ত বৈদ্যুতিক খুঁটি বা তার টানা সম্ভব হয়নি।
আজ তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত খাবাকসা কামি গ্রামে সৌর মাইক্রোগ্রিড এবং কমিউনিটি ভিত্তিক সৌর বিশুদ্ধ পানীয় জল প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।
আজকের এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই গ্রামের ৪২টি পরিবার বিদ্যুতের অভাবে চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। দুর্গম পাহাড়ি অবস্থানের কারণে সেখানে প্রচলিত বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী ডিভাইন প্রকল্পের আওতায় সৌর মাইক্রোগ্রিড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি গ্রামে বসানো হয়েছে সৌরচালিত স্ট্রিট লাইটও।
এদিন তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারকে তিনটি করে এলইডি আলো এবং মোবাইল চার্জিংয়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন আর কেরোসিনের প্রদীপের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে না গ্রামের মানুষকে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা রাতে পর্যাপ্ত আলোয় পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।
তিনি আরও জানান, শুধু খাবাকসা কামি গ্রাম নয়, ট্রেডার মাধ্যমে রাজ্যের মোট ৩৪৭টি দুর্গম এলাকায় সৌর মাইক্রোগ্রিড প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে সমগ্র ত্রিপুরায় মোট ১১ হাজার ৯৩৩টি পরিবার বিদ্যুতের সুবিধার আওতায় এসেছে।
শুধু বিদ্যুৎ নয়, বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দিতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। সৌরশক্তিচালিত কমিউনিটি ড্রিংকিং ওয়াটার প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজও জোরকদমে চলছে বলে জানান মন্ত্রী। রাজ্যজুড়ে মোট ৮০টি ইউনিট স্থাপনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩৭টির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং আরও ৩৮টির কাজ দ্রুত এগোচ্ছে।
গ্রামের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন রতন লাল নাথ। তিনি জানান, মানুষকে স্বনির্ভর করে তুলতে আম, কাঁঠাল, লেবুসহ বিভিন্ন ফলজ গাছের চারা বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কৃষি দপ্তরের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।