সোনামুড়ায় পেট্রোল নিয়ে আতঙ্ক, কালোবাজারির অভিযোগে চাঞ্চল্যমধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্য প্রভাব ঘিরে সোনামুড়ায় জ্বালানি তেল নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উৎকণ্ঠা। সরকারি স্তরে কোনও সংকটের ঘোষণা না থাকলেও হঠাৎ করেই পেট্রোল ও ডিজেল মজুতের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার রাত থেকেই বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে বাইক ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়।বিশেষ করে সোনামুড়ার এন. জে. ঘোষ পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকেই নজরে পড়ে অস্বাভাবিক ভিড়। বহু মানুষ আগাম তেল মজুতের উদ্দেশ্যে লাইনে দাঁড়ান। তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেল সরবরাহে কোনও ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত স্টক মজুত রয়েছে। সরকারিভাবেও পেট্রোল বা ডিজেল সংকট সংক্রান্ত কোনও ঘোষণা করা হয়নি।তবুও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। পাম্প সূত্রে জানা গেছে, যেখানে সাধারণত প্রতিদিন ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রি হয়, সেখানে গত একদিনেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ১০ হাজার লিটার। অর্থাৎ চাহিদা স্বাভাবিকের প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে। এর ফলে স্টক দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাম্প কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন। প্রতি বাইকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং প্রতি গাড়িতে ৫০০ টাকার তেল দেওয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এই সীমা না থাকলে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ স্টক শেষ হয়ে যেতে পারত। অনেকেই যারা আগে ১০০ বা ২০০ টাকার তেল নিতেন, তারাই এখন একসঙ্গে হাজার টাকার তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলছে।এর মধ্যেই আরও উদ্বেগজনক অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ড্রামে করে তেল সংগ্রহ করে মজুত করছেন। ভবিষ্যতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই এই কালোবাজারির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি।সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যখন সরকারি স্তরে কোনও সংকট নেই, তখন এই আতঙ্ক কেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার খবর এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া গুজবই এই অযৌক্তিক ভিড়ের অন্যতম কারণ। আতঙ্ক থেকেই আগাম মজুতের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে, যা প্রকৃত সংকট না থাকলেও সাময়িক চাপ সৃষ্টি করছে।এদিকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সীমিত পরিমাণ তেল নিয়েই ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ক্ষোভও বাড়ছে জনমনে।সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলেও উদ্বেগের ছায়া স্পষ্ট। প্রশাসন কীভাবে এই আতঙ্ক এবং সম্ভাব্য কালোবাজারি রুখবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সোনামুড়াবাসী। দ্রুত সচেতনতা প্রচার এবং কড়াকড়ি নজরদারি না বাড়ালে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।