কাঠালিয়া ব্লকের নির্ভয়পুর পঞ্চায়েতের লালটিলা এলাকার পশ্চিমাংশে, বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা কৃষিজমিতে দেখা দিয়েছে গভীর সঙ্কট। টানা প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন ধরে সেচের জল না পাওয়ায় প্রায় পাঁচ কানি জমির সবজি ক্ষেত নষ্টের মুখে পড়েছে। ফলে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।জানা গেছে, ওই এলাকায় সেচের প্রধান ভরসা একটি সোলারচালিত সেচ যন্ত্র। হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সেটি বিকল হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় জল সরবরাহ। পর্যাপ্ত সেচের অভাবে জমির মাটি ফেটে যাচ্ছে, গাছপালা শুকিয়ে যাচ্ছে—যার ফলে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসল।স্থানীয় কৃষক আব্দুল বারেক জানান, তিনি প্রায় চার কানি জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছিলেন। একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন সিদ্দিক মিয়াও। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে চাষ করলেও বর্তমানে জলের অভাবে সেই পরিশ্রম ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকদের বক্তব্য, “সময়মতো জল পেলে ভালো ফলন হতো, কিন্তু এখন সবকিছুই অনিশ্চিত।”অভিযোগ উঠেছে, সোলার সেচ যন্ত্রটি বিকল হওয়ার পর বিষয়টি একাধিকবার গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ব্লক প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের মতে, এই যন্ত্রের ওপর নির্ভর করেই এলাকার অধিকাংশ কৃষিকাজ পরিচালিত হয়। সেটি দীর্ঘদিন অচল থাকায় পুরো অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।এক কৃষক আক্ষেপের সুরে বলেন, “ঋণ নিয়ে বীজ, সার কিনেছি। এখন ফসল যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে ঋণ শোধ করব কীভাবে বুঝতে পারছি না।” এই অনিশ্চয়তা তাদের মানসিক চাপও বাড়িয়ে তুলছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সেচের জন্য ব্যবহৃত সোলার যন্ত্রটি নারায়ণ দে-র জমিতে স্থাপিত এবং আশপাশের একাধিক কৃষক সেটির ওপর নির্ভরশীল। যন্ত্রটি সচল থাকলে সহজেই নিয়মিত সেচ দেওয়া সম্ভব হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।বর্তমানে কৃষকদের একটাই দাবি—অবিলম্বে সোলার সেচ যন্ত্রটি মেরামত করে জল সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক। নাহলে অচিরেই সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।