মোহনপুর পৌর পরিষদে আয়োজিত আর্ট সোসাইটি প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেছেন, “শিল্পচর্চা মানুষের মানসিক বিকাশ ঘটায়, ধৈর্য শেখায়, মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং সৌন্দর্যবোধ জাগ্রত করে।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশোনায় মনোনিবেশ করা উচিত নয়, তাদের অবশ্যই পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপেও অংশগ্রহণ করা উচিত, যা তাদের সার্বিক বিকাশে সহায়ক হবে।মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান রাজ্য সরকার শিক্ষার পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতির সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।” তিনি যোগ করেন, “শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল পাওয়া জীবনে সাফল্য নিশ্চিত করে না। একজন সফল মানুষ হতে হলে, তাকে হতে হবে সংবেদনশীল, সৃজনশীল এবং মানবিক। নতুন ভাবনা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাই ভবিষ্যতের পথ দেখায়।” এই কারণে, মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতিকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।”মন্ত্রী আরও বলেন, “শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপও সমান গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি জানান, এসব কার্যকলাপ শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ খুলে দেয়। “আমাদের দেশে এবং বিশ্বজুড়ে অনেক চিত্রশিল্পী আছেন, যারা তাদের প্রতিভার মাধ্যমে সম্মানজনক জীবিকা নির্বাহ করছেন।”মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে হবে পড়াশোনার গণ্ডির বাইরে গিয়ে—কেউ হতে পারে নৃত্যশিল্পী, কেউ ক্রীড়াবিদ, কেউ চিত্রশিল্পী।” তিনি মনে করেন, একটি ছবি হাজার শব্দের সমান শক্তিশালী। “রঙের ভাঁজে লুকিয়ে থাকে অনুভূতির গল্প, আর শিল্প চোখের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করে,” বলেন তিনি।বিশেষভাবে, মন্ত্রী বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিল্পচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই যুগে শিল্প মানুষের মানসিক বিকাশে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি ধৈর্য, মনোযোগ এবং সৌন্দর্যবোধের চর্চা ঘটায়, যা শিশুদের সৃজনশীল চিন্তাশক্তিকে বিকশিত করে।” তিনি বিশ্বাস করেন, চিত্রাঙ্কন বা অন্যান্য শিল্পকর্ম ভবিষ্যতে যে কোনো পেশায় সাফল্য অর্জনে সহায়ক হবে।মন্ত্রী আরও জানান, রাজ্য সরকার চায় শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করুক তা নয়, তারা যেন সংবেদনশীল, সৃজনশীল এবং মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। তিনি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে বলেন, “শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ না থেকে, শিল্পকর্মকে জীবনের অংশ করে নাও। তোমাদের স্বপ্নগুলো রঙিন করে তুলো, কারণ তোমাদের হাত ধরেই এক সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সৃজনশীল সমাজ গড়ে উঠবে।”আজকের দিনে, শিল্পীরা বিভিন্ন আর্ট গ্যালারি, প্রদর্শনী, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তাদের শিল্পকর্ম বিক্রি করে স্বাবলম্বী হতে পারেন, এটি উল্লেখ করে মন্ত্রী শিল্পের সর্বজনীনতা এবং সম্ভাবনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।