আজ মকর সংক্রান্তি। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই দিনটি পরিচিত পৌষ সংক্রান্তি নামেও। শীতের আমেজ আর উৎসবের আনন্দে রাজ্যের গ্রাম থেকে শহর—ত্রিপুরার সর্বত্রই বইছে উৎসবের হাওয়া। বছরের এই বিশেষ দিনে ঘরে ঘরে যেন ফিরে আসে চেনা বাঙালি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উষ্ণতা।মকর সংক্রান্তি মানেই পিঠেপুলির উৎসব। ভোর থেকেই বাড়ির রান্নাঘরগুলিতে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। চিরাচরিত রীতি মেনে আগের দিন থেকেই প্রস্তুতি সারেন বাড়ির মহিলারা। চালের গুঁড়ো, নারকেল, গুড়, খেজুর গুড়, দুধ—সব উপকরণ একত্র করে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের পিঠে। ভাপা পিঠে, পাটিসাপটা, দুধ পুলি, চিতই পিঠে, তেল পিঠে—একটির পর একটি ঐতিহ্যবাহী পিঠে তৈরি হতে দেখা যায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই।এই উৎসবে পরিবারের প্রায় সব মহিলা সদস্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মা, মাসি, দিদি, বৌদি থেকে শুরু করে নববধূ—সবাই মিলেমিশে রান্নাঘরে সময় কাটান। একসঙ্গে কাজ করতে করতে চলে গল্প, হাসি-ঠাট্টা আর পুরনো স্মৃতিচারণ। সেই সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আপ্যায়নের প্রস্তুতিও চলে সমান তালে।রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এমনই উৎসবমুখর চিত্র ধরা পড়েছে। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বাড়ির মহিলারা জানান, মকর সংক্রান্তি মানেই পারিবারিক মিলন ও আনন্দ। আধুনিক ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এই দিনে সবাই চেষ্টা করেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। একসঙ্গে বসে পিঠে বানানো ও খাওয়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে এই উৎসবের আসল আনন্দ।অনেকের মতে, মকর সংক্রান্তি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় বা মৌসুমি উৎসব নয়। এটি বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা পিঠেপুলি তৈরির রীতি নতুন প্রজন্মের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার এক বিশেষ উপলক্ষ এই দিন। বড়দের হাত ধরে ছোটরাও শেখে নিজেদের সংস্কৃতির স্বাদ ও গুরুত্ব।শীতের শেষ প্রান্তে এসে এই উৎসব যেন আরও কাছাকাছি টেনে আনে মানুষকে। ভালোবাসা, সৌহার্দ্য আর পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ওঠে প্রতিটি ঘর। মকর সংক্রান্তিকে ঘিরে তাই শুধুই উৎসব নয়, বরং বাঙালিয়ানার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে ত্রিপুরার ঘরে ঘরে।