ত্রিপুরার এডিসি এলাকার আমতলী ঘোলাঘাটি নলছড় বিধানসভা কেন্দ্রের রামপদপাড়া ও বিভুরাম চৌধুরীপাড়ায় ধারাবাহিক সহিংস ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার গভীর রাতে বিজেপির একটি বুথ অফিসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে।
এর পরদিন সকালেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন বিজেপি কর্মীদের উপর হামলায় অন্তত ৮ জন আহত হন।স্থানীয় সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা বিভুরাম চৌধুরীপাড়ার বুথ অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আগুনে পুড়ে যায় আসবাবপত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।শনিবার সকালে রাজ্যের মন্ত্রী কিশোর বর্মন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ে দেখেন।
তবে তিনি সেখান থেকে ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই নতুন করে অশান্তির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতিকারী হঠাৎই ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালায়।এই হামলায় অন্তত ৮ জন আহত হন।
গুরুতর জখম লালবাহাদুর ত্রিপুরা ও রতন দেববর্মাকে দ্রুত মেলাঘর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, লালবাহাদুর ত্রিপুরার হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আগরতলার জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। অন্যদিকে, রতন দেববর্মার চিকিৎসা চলছে মেলাঘরেই। এছাড়া আরও ৬ জন আহত কর্মীকে তকসাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।খবর পেয়ে মন্ত্রী কিশোর বর্মন দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
তার সঙ্গে সোনামুড়া মণ্ডলের সভাপতি শুভজিৎ দাসকেও দেখা যায়।ঘটনার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী কিশোর বর্মন হামলার জন্য বিরোধী দলগুলিকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনে সম্ভাব্য পরাজয়ের আশঙ্কায় সিপিআইএম ও তিপরা মোথার সমর্থকেরা একযোগে এই হামলা চালাচ্ছে।
যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিরোধী দলগুলির তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।