ত্রিপুরা বিধানসভার সদ্য প্রয়াত অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের স্মৃতিতে একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি সভা অনুষ্ঠিত হয় আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রে। এই সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ত্রিপুরার মানুষকে সত্যিকার অর্থে একজন মহান জননেতা এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারানোর কথা উল্লেখ করেন।স্মৃতিচারণা সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মৃত্যু একমাত্র সত্য, আর কোন সত্য নেই। কিন্তু আমরা সেই সত্যকে মানতে চাই না। প্রতিটি মানুষের জীবনে একদিন এই ক্ষণ আসবে, কিন্তু আমরা অনেকেই সেটা উপলব্ধি করতে চাই না।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববন্ধু সেন একজন অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন, যার স্মৃতিচারণা কখনো শেষ হবে না। তার কাজ এবং প্রভাব ত্রিপুরার মানুষের মনে চিরকাল জীবন্ত থাকবে।”মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা, যিনি ১৯৭১ সালে এমবিবি কলেজে পড়াশোনা করার সময় বিশ্ববন্ধু সেনের সঙ্গে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন, সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বিশ্ববন্ধু সেনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বের, যেখানে কলেজের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সময়ের বাম শাসন নিয়ে বহু আলোচনা হতো।”তিনিও স্মরণ করেন, ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদানের পর ধর্মনগরে সাংগঠনিক কাজে গেলে, বিশ্ববন্ধু সেন তাকে সবসময় সহায়তা করতেন। “তিনি সবসময় আমাকে নিজের বন্ধু বলে পরিচয় করিয়ে দিতেন। ধর্মনগরে গেলে, তিনি আমাদের অন্যতম ভরসার ব্যক্তি ছিলেন,” বলেন ডাঃ সাহা।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “বিশ্ববন্ধু সেনের শেষবারের মতো আমার কাছে আসা, চা খেয়ে যাওয়া, এবং তারপর তার অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া আমাদের জন্য এক দুঃখজনক মুহূর্ত ছিল। তিনি প্রায়ই ধর্মনগরের উন্নতির জন্য চিন্তা করতেন। আমি নিজেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তিনি জীবনযুদ্ধে হার মানেন।”বিশ্ববন্ধু সেনের মৃত্যু ত্রিপুরার রাজনীতিতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। তিনি একদিকে যেমন কমিউনিস্ট বিরোধী আন্দোলনের একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন, তেমনি বিধানসভার কার্য পরিচালনায় তার অবদান ছিল অতুলনীয়।এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সভাপতি এবং সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, সহ সভাপতি সুবল ভৌমিক, মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, টিংকু রায়, কিশোর বর্মন, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রাম প্রসাদ পাল, এবং আরও অনেক রাজনীতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।বিশ্ববন্ধু সেনের মৃত্যু ত্রিপুরার রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিসরে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, তবে তার কর্ম এবং অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।