অসাধারণ তদন্ত দক্ষতা, দ্রুত পদক্ষেপ এবং ভুক্তভোগীর প্রতি অটল ন্যায়বোধের স্বীকৃতি হিসেবে বিলোনিয়া মহিলা থানার ইন্সপেক্টর স্বপ্না ভৌমিক এবার কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রীর দক্ষতা পদকে সম্মানিত হচ্ছেন। তাঁর এই সাফল্য শুধু বিলোনিয়া নয়, গোটা ত্রিপুরা পুলিশ বাহিনীর জন্যই এক অনন্য গৌরবের মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে।২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়া বিলোনিয়া মহিলা থানার মামলা নং ২০২৪ডাব্লিউএমএন০২৯-এর তদন্ত ছিল ইন্সপেক্টর ভৌমিকের নেতৃত্বে। মামলাটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ১২৭(১), ৯৬, ৭৬ ও ৬৫(২), এবং পকসো আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী নথিভুক্ত হয়েছিল। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হয় মাত্র ২৫৭ দিনের মধ্যেই — যা নতুন ফৌজদারি আইন অনুযায়ী দেশের অন্যতম দ্রুততম বিচারপ্রক্রিয়ার উদাহরণ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। এক শিশু কন্যা নিখোঁজ হওয়ার খবর থানায় আসে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইন্সপেক্টর স্বপ্না ভৌমিক তৎপর হয়ে ওঠেন এবং সেদিন রাতেই নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধার করেন। পরের দিন সকালেই মামলাটি রুজু করে তাঁর চিকিৎসা ও বিচারিক স্বীকারোক্তির ব্যবস্থা করেন।অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে প্রমাণ সংগ্রহ ও তদন্ত চালিয়ে ইন্সপেক্টর ভৌমিক দ্রুতই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। মাত্র ৪৭ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে, চার্জশিট দাখিল করা হয় বিএনএস-এর ধারা ১২৭(১)/৯৬/৭৬/৬৫(২)/৩৫১(২) এবং পকসো আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী। মামলাটি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারাধীন হয়ে দ্রুত রায়ের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।বিচার শেষে আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকার জরিমানা প্রদান করে। জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই মাসের সাজা ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বিএসএস ধারা ১৩৭(২) অনুযায়ী অভিযুক্তকে অতিরিক্ত দুই বছরের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকার জরিমানার নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি নির্যাতিতাকে ২ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।তদন্তের প্রতিটি ধাপে ইন্সপেক্টর স্বপ্না ভৌমিকের নেতৃত্ব, সংবেদনশীলতা এবং পেশাগত দক্ষতা প্রশংসিত হয়েছে ঊর্ধ্বতন মহলে। তিনি যেভাবে আইন অনুযায়ী দ্রুত প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষ্য প্রস্তুতি এবং আদালতে সঠিক উপস্থাপনার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করেছেন, তা দেশের আইনপ্রয়োগ ব্যবস্থার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।ত্রিপুরা পুলিশের ইতিহাসে এই কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। বিলোনিয়ার এই সাহসী পুলিশ অফিসারের সাফল্য প্রমাণ করে যে, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতা একসাথে থাকলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।ইন্সপেক্টর স্বপ্না ভৌমিকের এই সম্মান অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়—এটি নারী পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতার প্রতীক এবং সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাঁদের অগ্রণী ভূমিকার প্রতিফলন। ত্রিপুরা পুলিশের প্রত্যেক সদস্যের কাছে এই কৃতিত্ব আগামী দিনে এক প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।