বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর সহিংসতা ও সাংস্কৃতিক নিধনের অভিযোগে রতন লাল নাথের তীব্র নিন্দাবাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতা, নির্যাতন এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনার উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় ও তাদের ঐতিহ্যকে লক্ষ্য করে সংঘটিত হচ্ছে।এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর চলমান নৃশংসতা ও তাদের বিশ্বাসের কেন্দ্রগুলোর উপর আক্রমণ গভীর উদ্বেগজনক।
তার মতে, এসব কর্মকাণ্ড কেবল শারীরিক সহিংসতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টার অংশ।মন্ত্রী সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের জীবন নিরাপদ নয়।
তিনি দাবি করেন, এই ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর চলমান সহিংসতার ভয়াবহ বাস্তবতাকে তুলে ধরে।ধর্মীয় স্থাপনার উপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে রতন লাল নাথ বলেন, ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরে হামলা ও জমি দখলের প্রচেষ্টা হিন্দুদের অস্তিত্বের উপর সরাসরি আঘাত।
একইভাবে সাতক্ষীরার যশোরেশ্বরী কালী মন্দির থেকে মা কালীর মুকুট চুরির ঘটনাকে তিনি হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের চরম অবমাননা বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া ইসকনের মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকেও তিনি গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, আক্রমণ শুধু ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বাঙালি সংস্কৃতি ও সাহিত্যকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৈতৃক নিবাস (কাছারি বাড়ি) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রাহুল আনন্দের বাড়ি ও তার মূল্যবান বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে তিনি সাংস্কৃতিক নিধনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রতন লাল নাথ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে অবিলম্বে কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এসব ঘটনার প্রতি বিশ্ববাসীর মনোযোগ এবং প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
বিবৃতির শেষে তিনি বলেন, বিশ্বের যেখানেই সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়—হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান, জৈন বা পার্সি—বসবাস করুক না কেন, তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করা আন্তর্জাতিক সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং বাংলাদেশের সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।