ত্রিপুরার পেকুয়াজলা-জন্মেজয়নগর কেন্দ্রকে ঘিরে নির্বাচনী উত্তেজনা ক্রমশ তীব্র আকার ধারণ করছে। আসন্ন টিটিএডিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি প্রার্থীর দোকান ও বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠে এসেছে। এই ঘটনায় শ্রীনগর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী।অভিযোগকারী প্রার্থী জানান, চলতি মাসের ১৭ তারিখে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি এলাকায় নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। প্রচারের সময় তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গীতা রানীর সঙ্গে সামান্য বাকবিতণ্ডা হলেও, বিষয়টি তখনই মিটে যায় বলে দাবি করেন তিনি। তবে এর কিছু সময় পরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ।প্রার্থীর দাবি, তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে একদল দুষ্কৃতী তার ছেলের দোকানে হামলা চালায়। দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয় এবং আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে তার নিজস্ব বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ প্রসঙ্গে প্রার্থী বলেন, “রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত ব্যবসা বা জীবিকার ওপর আঘাত করা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।”ঘটনার পর তিনি মণ্ডল সভাপতি এবং অন্যান্য দলীয় নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে হামলায় জড়িত কয়েকজন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।অন্যদিকে, একই এলাকায় বিজেপির কর্মী বচন দেববর্মা ও সুভাষ দেববর্মার বাড়িতেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাদের বসবাসের ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের সহিংস ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে এবং ভোটারদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এই ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।সবমিলিয়ে, পেকুয়াজলা-জন্মেজয়নগর কেন্দ্রের এই ঘটনা আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে। এখন প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, সেটাই দেখার।