ত্রিপুরার নলছড় এলাকার কেমতলী বৈদ্যমুড়া গ্রামে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। মাত্র ১৩ বছরের এক কিশোর — অনুপম দাস, যিনি অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন — তাঁরই বাবার হাতে খুন হলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বাবা শিমুল দাস নিজের ছেলেকে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্থানীয় রাবার বাগানে মৃতদেহ ফেলে রেখে যায়। মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী রাবার বাগানের ভিতর শিশুটির দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে মেলাঘর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অনুপমের নিথর দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের গলায় স্পষ্ট দাগ ছিল, পাশে পড়ে ছিল একটি বেল্ট — যা দিয়ে খুনের ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা। পুলিশের মতে, প্রমাণের ভিত্তিতে এই বেল্টই হত্যার হাতিয়ার।
অভিযুক্ত শিমুল দাস ঘটনার পরপরই এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশি তৎপরতায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পারিবারিক অশান্তিই সম্ভবত এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করছি, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ থেকে এই মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত।”
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই সমগ্র বৈদ্যমুড়া গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সবাই হতবাক — কিভাবে এক বাবা নিজের সন্তানের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে! প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, অনুপম ছিল পড়াশোনায় ভালো, শান্ত স্বভাবের ছেলে। তার এমন পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় নির্ধারণ করা যাবে। একই সঙ্গে পুলিশ শিমুল দাসকে হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে, যাতে জানা যায় কী পরিস্থিতিতে এই নির্মম খুন সংঘটিত হল।
স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন, অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে। শিশু হত্যা নিয়ে এলাকায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।
এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছে। বাবা ও সন্তানের সম্পর্ক যেখানে ভালোবাসা, স্নেহ ও নিরাপত্তার প্রতীক — সেখানে এক পিতা যখন নিজের সন্তানের প্রাণ কেড়ে নেয়, তখন তা মানবিকতার সবচেয়ে অন্ধকার দিককে সামনে নিয়ে আসে।