উদয়পুরে নতুন সিএনজি স্টেশন উদ্বোধন—পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহারে ত্রিপুরার আরও এক ধাপ অগ্রগতিত্রিপুরায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারে আরও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো গোমতী জেলার উদয়পুরের খিলপাড়ায়। ত্রিপুরা ন্যাচারাল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (টিএনজিসিএল)-এর নতুন সিএনজি স্টেশনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সারা বিশ্বে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে সিএনজি আজ বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে, আর সেই পথে এগিয়েই ত্রিপুরার উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে চাইছে রাজ্য সরকার।উদ্বোধনী ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী ডঃ সাহা জানান, উন্নত রাষ্ট্র ও আধুনিক শহরগুলোর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার একান্ত প্রয়োজন। সেই জায়গায় সিএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি যেমন অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী, তেমনি দূষণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। তাঁর বক্তব্য, সিএনজি ব্যবহারের ফলে শুধু যানবাহন পরিচালনার খরচ কমে না, বরং বায়ুর মানও উন্নত হয়, যা সামগ্রিকভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে।বর্তমানে ত্রিপুরায় টিএনজিসিএল প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি যানবাহনকে নিয়মিত সিএনজি জ্বালানি সরবরাহ করছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি রাজ্যের পরিবেশগত দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে।ত্রিপুরায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে টিএনজিসিএল গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যে ৩১টি সিএনজি স্টেশন চালু করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ ও শহুরে উভয় এলাকায় সিএনজির সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।খিলপাড়ায় উদ্বোধন হওয়া নতুন স্টেশনটি ‘মাদার স্টেশন’ হিসেবে কাজ করবে, যেখান থেকে অন্যান্য এলাকায় সিএনজি সরবরাহ করা হবে। টিএনজিসিএল ইতোমধ্যে ফটিকছড়া ও বোধজংনগরে নতুন সিএনজি স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি এডিনগর ও বড়জলা সিএনজি স্টেশনের আপগ্রেডেশনের কাজও চলছে।মোহনপুরে সিএনজি স্টেশন নির্মাণের জন্য দুটি জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া খয়েরপুর–আমতলি বাইপাস, বাগমা, অমরপুর এবং অম্পি এলাকায় নতুন স্টেশন স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এসব পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন হলে রাজ্যের আরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহারকে জনপ্রিয় করা সম্ভব হবে।নতুন সিএনজি স্টেশন নির্মাণে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। তিনি টিএনজিসিএল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রতিষ্ঠানটি যে কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। নতুন স্টেশন চালু হওয়ার ফলে অটোচালক, ট্যাক্সি মালিক এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের চালকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ত্রিপুরায় সিএনজির যাত্রা শুরু হয়েছিল রাজধানীর এডিনগর থেকে—যা সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রথম সিএনজি স্টেশন। তিনি বলেন, আজ শুধু ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক যানবাহনই নয়, বরং শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও গ্যাস সরবরাহ করছে টিএনজিসিএল। এর ফলে শিল্পখাতে ব্যয় কমছে এবং পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ছে।এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার মানুষের জীবনের মৌলিক সমস্যা সমাধানকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর মতে, রাজ্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটানোর জন্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারের বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষা, অর্থনৈতিক সাশ্রয় এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি—এই তিন লক্ষ্য পূরণেই সিএনজি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। তিনি বলেন, “ত্রিপুরা আজ বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে এগিয়ে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তা এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের মধ্যে ও দেশের বাইরে মানুষের যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তা আমাদের উন্নয়নের গতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।”উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা, গোমতী জেলা পরিষদের সভাপতি দেবল দেবরায়, বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, বিধায়ক জিতেন্দ্র মজুমদার, উদয়পুর পুর পরিষদের চেয়ারম্যান শীতল চন্দ্র মজুমদার, গোমতী জেলাশাসক রিংকু লাথের, পুলিশ সুপার কিরণ কুমার কে, এবং টিএনজিসিএল-এর এমডি প্রলয় পাত্র। অনুষ্ঠানে আরও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা যোগ দেন।উদয়পুরের খিলপাড়ায় নতুন সিএনজি স্টেশন উদ্বোধনের মাধ্যমে ত্রিপুরার পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জিত হলো। সরকারের লক্ষ্য—রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলে পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি পৌঁছে দেওয়া। নতুন এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনীতিকেও আরও এগিয়ে নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।