ত্রিপুরার উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার পশ্চিম চন্দ্রপুর এলাকায় ফের তিনজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে সাদা পোশাকের পুলিশ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে এরা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে এদের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ থাকায় বিশেষ সূত্রের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা মোঃ নুর আলম, রায়হান মিয়া এবং মহিউদ্দিন নামের এই তিনজন বাংলাদেশি প্রথমে স্থানীয় দালালদের সাহায্যে সীমান্ত অতিক্রম করে বেঙ্গালুরু যায়। সেখানে মাথাপিছু পাঁচ হাজার টাকা করে দিয়ে জাল আধার কার্ড তৈরি করায় তারা। মোট পনেরো হাজার টাকায় তৈরি করা এই পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তারা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিত। বেঙ্গালুরুতে কয়েক মাস থাকার পর তারা কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় তিন মাস অবস্থান করে। পরে পুনরায় ত্রিপুরায় ফিরে আসে এবং পশ্চিম চন্দ্রপুর এলাকার এক দালাল ইসলাম-এর বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, দালাল ইসলাম এই তিনজনকে ভারতে প্রবেশ করানোর সময় মাথাপিছু ১২ হাজার টাকা করে নেয়। বর্তমানে ইসলাম পলাতক, এবং পুলিশ তাকে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। আটক তিন বাংলাদেশিকে ধর্মনগর আরক্ষা দপ্তরে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি শুধু সীমান্ত চোরাপথে অনুপ্রবেশ নয়, বরং বড়সড় একটি জাল পরিচয়পত্র তৈরির চক্রের অংশ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, বেঙ্গালুরু, কলকাতা ও ত্রিপুরা জুড়ে এই চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে, যেখানে দালালরা বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশে সহায়তা করছে এবং ভুয়ো নথি তৈরি করে তাদের পরিচয় বদলে দিচ্ছে।
ত্রিপুরা পুলিশের তরফ থেকে জানা গেছে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং বিএসএফ-এর সহযোগিতায় গোটা ঘটনার উপর নজরদারি চলছে। পুলিশ আশাবাদী, খুব শিগগিরই দালাল ইসলাম ও তার চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।