কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ত্রিপুরা পিপলস পার্টি ও গণ মঞ্চের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে চার ঘণ্টাব্যাপী গণঅবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলির নেতৃত্বের বক্তব্য, দেশ বর্তমানে গভীর রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বেসরকারিকরণ, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষা ব্যবস্থার গেরুয়াকরণ এবং কৃষক-শ্রমিক বিরোধী নীতির মাধ্যমে জনস্বার্থবিরোধী পথ অনুসরণ করছে। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক বিভাজন ক্রমশ তীব্রতর করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।নেতৃত্বের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ বৈধ নাগরিকের ভোটাধিকার খর্ব করার ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁদের দাবি, বিহার বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের অধিকাংশই আদিবাসী, দলিত, ওবিসি, সংখ্যালঘু ও বিরোধী মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত। একই ধরনের প্রক্রিয়া ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামসহ একাধিক রাজ্যে শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।সংগঠনগুলির মতে, এই পদক্ষেপগুলির মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল ও তা বজায় রাখা এবং দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করা।গণঅবস্থানে কেন্দ্র সরকারের প্রণীত নতুন শ্রম কোডেরও তীব্র বিরোধিতা করা হয়। অভিযোগ করা হয়, এই শ্রম কোড শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, ধর্মঘট করা এবং ন্যূনতম মজুরি নিয়ে দরকষাকষির অধিকার সীমিত করছে। একই সঙ্গে কৃষি বীজ আইন ও বিদ্যুৎ বিলকেও কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দেওয়া হয়।রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র-যুব, মহিলা, ওবিসি, তপশিলি জাতি, জনজাতি ও সংখ্যালঘুদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চলছে এবং প্রতিবাদী আন্দোলনের উপর দমন-পীড়ন বৃদ্ধি পেয়েছে।এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল, শ্রম কোড প্রত্যাহারসহ একাধিক দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এই গণঅবস্থান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংগঠনের নেতারা। কর্মসূচিকে সফল করে তুলতে সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।