আগরতলা শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে এবার আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চলেছে শহরের বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক সংস্থাগুলি। পুর নিগমের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ কাউন্সিল সভায় এই নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার। তিনি বলেন, শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবার থেকে শুধু পুর নিগমের কর্মীদের উপর নির্ভর না করে সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও দায়িত্বশীলভাবে যুক্ত করা হবে।
মেয়রের বক্তব্য অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত ‘স্বচ্ছতা পুরস্কার’-এর মাধ্যমে শহরের ক্লাবগুলিকে পরিচ্ছন্নতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত যেসব ক্লাব নিজ নিজ এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও আবর্জনামুক্ত রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে, তাদের মধ্য থেকে ১৩টি ক্লাবকে পুরস্কৃত করা হবে। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে প্রথম তিনটি ক্লাবকে দেওয়া হবে যথাক্রমে ৩ লক্ষ, ২ লক্ষ এবং ১ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি বেস্ট পারফর্মিং ১০টি ক্লাবকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সম্মাননা প্রদান করবে নিগম।
মেয়র জানান, “আগরতলা শহরকে নির্মল ও পরিপাটি রাখতে আমাদের সবাইকে যৌথভাবে এগিয়ে আসতে হবে। ক্লাবগুলিকে যুক্ত করলে স্থানীয় স্তরে সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি উদ্যোগগুলিও আরও কার্যকর হবে।” তিনি আরও বলেন, এই পুরস্কার ক্লাবগুলিকে উৎসাহিত করবে এবং শহরের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখতে সকলে একযোগে কাজ করতে পারবে।
চার বছর পূর্তি উপলক্ষে শুধু স্বচ্ছতা পুরস্কারই নয়, আরও নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মেয়রের কথায়, পুর নিগম গঠনের পর গত চার বছরে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে, তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে ফ্লেক্সের মাধ্যমে তথ্য তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি প্রকাশিত হবে চার বছরের কাজের একটি বিশেষ ম্যাগাজিন।
এই ম্যাগাজিনে থাকবে বিভিন্ন প্রকল্প, কাজের অগ্রগতি, নতুন উদ্যোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ। নিগম চাইছে, শহরের নাগরিকরা যেন স্পষ্টভাবে জানতে পারেন কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটেছে এবং কোন ক্ষেত্রে আরও কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
মেয়র জানান, শহরজুড়ে চার বছর পূর্তি উদ্যাপনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক অনুষ্ঠান ছাড়াও কেন্দ্রীয়ভাবে বড় অনুষ্ঠান হবে, যেখানে স্থানীয় শিল্পী এবং প্রতিভাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
এর পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে রক্তদান শিবির ও স্বাস্থ্য শিবির আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য শিবিরে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যপরামর্শ, প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সুবিধা পাবেন। এই উদ্যোগ বিশেষ করে নিম্ন–আয়ের মানুষদের উপকারে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মেয়র।
গত বছরের মতো এ বছরও প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রায় ১০০ জন দরিদ্র মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হবে। আগরতলার শীতপ্রবণ এলাকাগুলিতে এই উদ্যোগ জনকল্যাণমূলক কাজ হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে আগেই। মেয়র জানান, “শীতের সময় কোনও মানুষ যেন মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।”
‘লোকাল ফর ভোকাল’ স্লোগানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী স্বদেশি মেলা। এখানে স্থানীয় শিল্পী, উদ্যোক্তা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারবেন। মেলা আয়োজনের মূল লক্ষ্য স্থানীয় উৎপাদকদের বাজার তৈরি করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে দেশীয় পণ্যের গুরুত্ব তুলে ধরা।
কাউন্সিল বৈঠকে মেয়রের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, নিগমের কমিশনার ডি.কে. চাকমা এবং সমস্ত কর্পোরেটর। বৈঠক শেষে কর্পোরেটররা মেয়রকে চার বছর ধরে সফলভাবে পুর নিগম পরিচালনার জন্য অভিনন্দন জানান। মেয়রও মুখ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।