কেন্দ্রের অর্থনৈতিক নীতি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ এবং শ্রমজীবী মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন বিভিন্ন বিল—সবকিছুর বিরুদ্ধেই সরব হল প্রদেশ কংগ্রেস। আজ আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার “কর্পোরেটমুখী নীতি” অনুসরণ করে জনস্বার্থকে ক্রমাগত উপেক্ষা করছে।
তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালের পর থেকে সরকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে বিভাজন ও প্রোপাগান্ডাকে উৎসাহিত করেছে। এর জেরে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের।
দলটি আরও জানায়, গত পাঁচ বছরে দেশে ২ লক্ষেরও বেশি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। “ফেক” বা “শেল কোম্পানি”র বৃদ্ধিও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বহু সংস্থা শ্রমিকদের বকেয়া না দিয়েই কার্যক্রম বন্ধ করেছে। শিল্প উৎপাদন কমা, বিদ্যুৎ খাতে সংকোচন, বাজারে চাহিদাহ্রাস—এসব তুলে ধরে কংগ্রেস বলেছে, সরকারের জিডিপি বৃদ্ধির দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না, বরং তা “প্রচারনির্ভর ব্যাখ্যা”।
নতুন শ্রম কোড, বীজ বিল ২০২৫ এবং বিদ্যুৎ বিল ২০২৫—এই তিনটি বিলকে কেন্দ্র করে বিশেষভাবে আপত্তি তোলে কংগ্রেস। দলের বক্তব্য, নতুন শ্রম কোড ৯০ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও সুরক্ষা কমিয়ে দেবে। বীজ বিল ২০২৫ কৃষকদের হাত থেকে নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে কোম্পানির ওপর নির্ভরতা বাড়াবে। আর বিদ্যুৎ বিল ২০২৫-এ ক্রস-সাবসিডি উঠে গেলে গ্রামীণ পরিবার ও কৃষকদের বিদ্যুৎ ব্যয় বহুগুণ বাড়বে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, বিলগুলো পাশ হলে কৃষি ও বিদ্যুৎ খাতে কর্পোরেট প্রভাব বাড়বে এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে—যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।
‘সঞ্চার সাথী’ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় এখনও স্পষ্ট আইনি সুরাহা হয়নি। নির্দেশিকা প্রত্যাহার করা হলেও স্বচ্ছ ও সংশোধিত নোটিফিকেশন প্রকাশ জরুরি।
এই প্রেক্ষিতে আগামী ৮ ডিসেম্বর রাজ্যজুড়ে আন্দোলন, প্রতিবাদ মিছিল এবং প্রতীকীভাবে ‘বীজ বিল’ ও ‘বিদ্যুৎ বিল’-এর খসড়া পোড়ানোর কর্মসূচির ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। দল জানায়, জনস্বার্থ রক্ষায় ধারাবাহিক আন্দোলন সারা দেশেই চালানো হবে।