ত্রিপুরায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণে চাঞ্চল্য! আতঙ্কে নলচরবাসী
মেলাঘর থানার অন্তর্গত নলচর বড়মুড়া ওএনজিসি এলাকায় পঞ্চম শ্রেণির এক নাবালিকা স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা নলচর ও আশপাশের এলাকায়। দুর্গাপূজার আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্যেই এমন একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটায় স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে নেমে এসেছে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সঞ্চার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নলচর বড়মুড়া এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকা ছাত্রী দুর্গাপূজার দশমীর দিন বিকেলের দিকে বাড়ির সামনে অন্যান্য বাচ্চাদের সঙ্গে খেলছিল। সেই সময় এলাকারই এক যুবক সুজিত দেব নামের ব্যক্তি কথাবার্তার ছলে ও প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রথমে পরিবার ভেবেছিল মেয়েটি হয়তো আশেপাশের কোথাও গিয়েছে, কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান না পেয়ে অবশেষে মেয়েটির বাবা সেদিন রাতেই মেলাঘর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ দায়েরের পর বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও এখনো পর্যন্ত নাবালিকা মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। পরিবার জানিয়েছে, তারা প্রতিদিন থানায় যোগাযোগ রাখছে, কিন্তু সঠিক অগ্রগতি জানতে পারছে না।
শুক্রবার মেয়েটির বাবা আবারও থানায় গিয়ে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সুজিত দেব দীর্ঘদিন রাজ্যের বাইরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। সম্প্রতি তিনি নলচরে ফিরে আসেন। প্রতিবেশীদের একাংশের মতে, ফিরে আসার পর থেকেই ওই যুবক এলাকার শিশু ও কিশোরীদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কথা বলার চেষ্টা করতেন। অনেকেই তাঁর আচরণে অস্বস্তি অনুভব করলেও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
অনুমান করা হচ্ছে, তিনি পরিকল্পিতভাবে সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। দুর্গাপূজার সময় যখন এলাকায় নজরদারি কম থাকে ও সবাই উৎসবে ব্যস্ত থাকে, তখনই তিনি নাবালিকাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায়।
মেলাঘর থানার একজন আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে। সুজিত দেবের মোবাইল ফোনের অবস্থান ট্র্যাক করা হচ্ছে এবং রাজ্যের বাইরে সম্ভাব্য লুকানোর জায়গাগুলোতেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনাটি ইতিমধ্যেই স্থানীয় শিশু সুরক্ষা সংস্থার নজরে এসেছে। তারা পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে। ত্রিপুরা রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনও ঘটনার ওপর রিপোর্ট তলব করেছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকেই নলচর ও বড়মুড়া এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ। অভিভাবকেরা এখন আর শিশুদের একা বাইরে খেলতে দিচ্ছেন না। সন্ধ্যার পর অনেকেই বাড়ির বাইরে আলো জ্বালিয়ে রাখছেন, এবং স্থানীয় যুবকেরা স্বেচ্ছায় টহল দিচ্ছেন।
এই ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি অপহরণের ঘটনা নয়; এটি শিশু সুরক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং পুলিশের কার্যকারিতা—এই তিনটি প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে,
- শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি।
- পাড়ায় পাড়ায় নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
- শিশুদের আত্মরক্ষার মৌলিক শিক্ষা ও সচেতনতা কর্মসূচি চালানো উচিত।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের সন্ধানে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে রাজ্যের বাইরেও তল্লাশি চালানো হবে।
তবে, যতদিন না সেই নাবালিকা মেয়েটি নিরাপদে পরিবারের কোলে ফিরে আসে, ততদিন পর্যন্ত নলচরবাসীর মনে আতঙ্ক ও অসন্তোষ একইভাবে বিরাজ করবে