এমজিএনরেগা নিয়ে কেন্দ্রীয় ও ত্রিপুরা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। তিনি অভিযোগ করেন, মহাত্মা গান্ধীর নামে প্রণীত ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পটিকে কার্যত অকার্যকর করে নতুন আইনের মোড়কে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত করা হচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আশীষ সাহা দাবি করেন—
“অধিক দিনের কাজ ও অধিক মজুরির বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালালেও প্রকৃত অর্থে এমজিএনরেগার বরাদ্দ ক্রমশ কমিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। জনগণের চোখে ধুলো দিতেই এই প্রচারবাজি।”
তিনি জানান, ইউপিএ আমলে যেখানে কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রায় ৪% বরাদ্দ থাকত এই প্রকল্পে, সেখানে চলতি বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.৩৭ শতাংশে। ২০১৪ সালের পর দেশে ১০ কোটিরও বেশি জব কার্ড ‘ডিজিটালাইজেশন, আধার লিংক ও ব্যাংক কেওয়াইসি’র অজুহাতে বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ত্রিপুরার বাতিল হওয়া জব কার্ডের সংখ্যা প্রায় ৯ লক্ষ।
এমজিএনরেগায় কাজ পাওয়ার দিনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে অভিযোগ করেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর মতে, “দেশে যেখানে কাজের গড় দিন ৪৫–৪৬ দিনে নেমে এসেছে, ত্রিপুরায় তা আরও কম, মাত্র ৩২–৩৩ দিন।”
তিনি দাবি করেন, গত ১১ বছরে মাত্র ৮ শতাংশ পরিবারই ১০০ দিনের কাজ পেয়েছে—যাদের বেশিরভাগ শাসক দলের ঘনিষ্ঠ।
মজুরি বকেয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আশীষ সাহা। তাঁর অভিযোগ—দেশজুড়ে ও ত্রিপুরায় কোটি কোটি টাকা মজুরি এখনও বকেয়া রয়েছে। কাজ না করেও মজুরি তোলার মতো অনিয়মের অভিযোগও সামনে আনেন তিনি।
এদিন কেন্দ্রীয় গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সোশ্যাল অডিট রিপোর্টের তথ্য তুলে ধরে আশীষ সাহা দাবি করেন, ২০১৮–১৯ থেকে ২০২৫–২৬ পর্যন্ত আর্থিক বছরগুলোতে ত্রিপুরার এমজিএনরেগা প্রকল্পে শত শত কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর অভিযোগ—এই অনিয়ম আড়াল করার জন্যই সরকার প্রকল্পের আইনগত সুরক্ষা কমিয়ে দিতে চাইছে, যাতে ঠিকাদার ও শাসকদলের একাংশের হাতে বড় অঙ্কের টাকা চলে যায়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এমজিএনরেগা শুধু একটি দপ্তরিক প্রকল্প নয়—এটি গ্রামীণ জীবিকার ভিত্তি। এটিকে দুর্বল করা মানে গ্রামীণ অর্থনীতিকে ভেঙে দেওয়া।”
কংগ্রেস এই নীতির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।