মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত পৃষ্ঠাপ্রমুখ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানালেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ। তিনি বলেন, যেকোনো নির্বাচনে জয়লাভের জন্য উন্নয়ন, জনসাধারণের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং পৃষ্ঠাপ্রমুখদের সক্রিয় ও নিষ্ঠাবান ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করেই দলের ভবিষ্যৎ সাফল্য নির্ভর করছে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্যসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের উপস্থিতিতে মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচিতে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী রতন লাল নাথ স্পষ্ট করে বলেন, এই সম্মেলন কোনও সাধারণ জনসভা নয়। এটি সংগঠনের একেবারে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের নিয়ে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক একটি উদ্যোগ। তিনি জানান, পৃষ্ঠাপ্রমুখ সম্মেলনের আগে একাধিক প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একটি সমীক্ষাও পরিচালনা করা হয়েছে। সেই সমীক্ষার ফলাফলের উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজ যদি নির্বাচন হয়, তাহলে মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপিই জয়লাভ করবে।”
তিনি পৃষ্ঠাপ্রমুখদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানান, অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে আরও বেশি ভোটারকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করার। তাঁর মতে, পৃষ্ঠাপ্রমুখরাই মানুষের সঙ্গে দলের সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরি করেন এবং তাঁদের মাধ্যমেই সংগঠনের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়।
পৃষ্ঠাপ্রমুখদের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “পৃষ্ঠাপ্রমুখরাই দলের মূল স্তম্ভ। সংগঠনের সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে তাঁদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।” তিনি আরও বলেন, সংগঠন, পৃষ্ঠাপ্রমুখদের সঙ্গে মানুষের সুসম্পর্ক এবং উন্নয়ন—এই তিনটি বিষয় নির্বাচনী জয়ের জন্য অপরিহার্য। বিজেপি এই তিনটি ক্ষেত্রকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দলের কার্যকর্তারা একেবারে তৃণমূল স্তরে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছেন।
সম্মেলনে উপস্থিত পৃষ্ঠাপ্রমুখদের শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার বিশেষভাবে প্রশংসা করেন রতন লাল নাথ। তিনি বলেন, “আজ এত তীব্র রোদ থাকা সত্ত্বেও একজন পৃষ্ঠাপ্রমুখও নিজের আসন ছেড়ে ওঠেননি। এটি আমাদের সংগঠনের শৃঙ্খলা ও একাগ্রতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও কর্মীদের প্রতি নেতৃত্বের আস্থা।
এই অনুষ্ঠানে মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সমস্ত মণ্ডলের কার্যকর্তা এবং মোট ১৩৪ জন জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পাশাপাশি, কেন্দ্রের অন্তর্গত ৫৬টি বুথ থেকে মোট ১,১২০ জন পৃষ্ঠাপ্রমুখ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন, যা এই কর্মসূচির ব্যাপকতা ও গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
নিজের বক্তব্যের শেষাংশে মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, “পৃষ্ঠাপ্রমুখরাই আমাদের সংগঠনের মেরুদণ্ড। তাঁদের নিষ্ঠা, দূরদৃষ্টি ও নিরলস পরিশ্রম আমাদের একটি আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করে।” তিনি আরও বলেন, পৃষ্ঠাপ্রমুখদের প্রতি স্বীকৃতি ও সম্মান জানানো শুধু কর্তব্য নয়, এটি দলের দায়িত্ব। কারণ তাঁরা সারা বছর ধরে নীরবে দলের জন্য কাজ করে যান এবং সংগঠনের শক্তিকে মজবুত করে তোলেন।
সার্বিকভাবে, মোহনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের এই পৃষ্ঠাপ্রমুখ সম্মেলন বিজেপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি, তৃণমূল স্তরের কর্মীদের ভূমিকা এবং আসন্ন নির্বাচনী লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।