ত্রিপুরা রাজ্যে গত সাত বছরে ফুলচাষে এসেছে অভূতপূর্ব পরিবর্তন। উৎপাদন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে কৃষকদের আয়—সব ক্ষেত্রেই চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত ৫৯ হাজারেরও বেশি কৃষক আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।
বুধবার পশ্চিম ত্রিপুরার মোহনপুরে বিবেকানন্দ ফুল উদ্যানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রী রতন লাল নাথ এই তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ফুল ছাড়া মানুষের জীবন কল্পনা করা যায় না। সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফুলের ব্যবহার অপরিহার্য। ত্রিপুরার উর্বর মাটি ও অনুকূল জলবায়ু ফুলচাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।”
মন্ত্রী জানান, একসময় ফুলকে শুধুমাত্র সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হলেও এখন তা বহু মানুষের জীবিকার প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু কৃষক ফুলচাষ করে উল্লেখযোগ্য আয় করছেন।
বারজালার সেন্টু ভৌমিক বছরে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা, কাঞ্চনমালার প্রদীপ সরকার ১২ লক্ষ টাকা এবং বাইখোরার ইন্দ্রজিৎ দেবনাথ ৮-৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। এভাবে অনেক কৃষকই ফুলচাষে সফলতার নজির গড়েছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের আগে রাজ্যে মাত্র ২,৭৩৮ কানি জমিতে ফুলচাষ হত। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১,৭২০ কানিতে। একইসঙ্গে কৃষকের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে—২,১৯০ জন থেকে বেড়ে এখন ৫৯,১০০ জন।
উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এসেছে বড়সড় সাফল্য। আগে যেখানে মোট উৎপাদন ছিল ১,১১৭ মেট্রিক টন, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ২,৭০৪ মেট্রিক টন। রাজ্যের চাহিদার ৩৫ শতাংশ ফুল আগে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ শতাংশে। ফলে বাইরের রাজ্য থেকে ফুল আমদানির প্রয়োজন অনেকটাই কমেছে।
খোলা মাঠের পাশাপাশি এখন আধুনিক সুরক্ষিত কাঠামোর মধ্যেও চাষ বাড়ছে। অর্কিড, জারবেরা ও অ্যান্থুরিয়ামের মতো উচ্চমূল্যের ফুলের চাষ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে ২২৫টি ইউনিটে এই ধরনের চাষ হত, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৫০৪টি। সুরক্ষিত চাষের হার ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “কৃষিকাজ বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পেশা। আমরা কৃষকদের সেই মর্যাদা দিই। ফুল মানুষের মনকে নরম করে, মানবিক করে তোলে।”
ত্রিপুরার ফুলচাষ আজ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং হয়ে উঠেছে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিশা—এমনটাই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।