ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে এই আমন মৌসুমে কৃষিকাজ এক অভূতপূর্ব সঙ্কটের মুখে পড়েছে। সীমান্তরক্ষার উদ্দেশ্যে স্থাপিত অতিরিক্ত-শক্তির এলইডি লাইট রাতে অবিরাম জ্বলে থাকায় ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।কৃষকদের অভিযোগ—টানা তীব্র আলোক বিকিরণে ধানের গাছ অস্বাভাবিকভাবে লম্বা হলেও শীষে দানা হয়নি। অনেক জায়গায় গাছ তাপে শুকিয়ে যাওয়ায় পুরো মৌসুমের বিনিয়োগ কার্যত ডুবেছে। তাদের কথায়, “এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি; আলো গাছের ঘুম–জাগরণ চক্রটাকেই নষ্ট করে দিয়েছে।”শুধু আলোর সমস্যাই নয়—সীমান্তের মূল কাঁটাতার থেকে কয়েক মিটার দূরে মাটির সমতলে অতিরিক্ত কাঁটাতার বসানোয় মাঠে যাওয়া–আসার পথও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত পা কেটে, ঘা হয়ে কৃষক–শ্রমিকরা মাঠে ফিরছেন।সোনামুড়া মহকুমার দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে কাঠালিয়া ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, আগের কম-পাওয়ারের লাইটে কখনো এমন ক্ষতি হয়নি। গত এক বছরে প্রায় ত্রিশ ফুট উঁচুতে বসানো নতুন লাইটের তীব্রতা জমিতে বিধ্বংসী প্রভাব ফেলছে।উত্তর পাহাড়পুর থেকে দক্ষিণ ভবানীপুর পর্যন্ত বহু কৃষক সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। নির্ভয়পুরের রহিম মিয়া, শৈলেন সরকার, হারাধন দে-সহ অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—“এই ক্ষতির দায় কে নেবে? ফসল গেল, এখন ক্ষতিপূরণটাও যদি না আসে, পরিবার চালাব কী দিয়ে?”তাদের অভিযোগ, বিএসএফকে বিষয়টি জানানো হলেও সংস্থাটি বিষয়টিকে “নিয়ন্ত্রণের বাইরে” বলে পাশ কাটিয়েছে। পঞ্চায়েত, ব্লক প্রশাসন ও এলাকার বিধায়কও এখনও আশ্বাস ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেননি।কৃষকদের আশঙ্কা—সমস্যা সমাধানে সরকারি উদ্যোগ না এলে সীমান্তবর্তী বহু উর্বর জমি অদূর ভবিষ্যতে চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য—“শ্রম, সময় আর টাকা ঢেলে যদি ফলনই না পাই, তাহলে চাষাবাদ চালিয়ে যাই কীভাবে?”সীমান্ত নিরাপত্তার প্রয়োজনে স্থাপিত যন্ত্রপাতি ও আলোকব্যবস্থা এখন সীমান্তবর্তী কৃষকদের বেঁচে থাকার লড়াইকেই কঠিন করে তুলেছে—এ কথা আর অস্বীকারের উপায় নেই।