দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরল কৈলাসহরের নিখোঁজ যুবক নিত্যানন্দ মালাকারের মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার বিকেলে কৈলাসহরের মনু ল্যান্ড কাস্টমস দিয়ে বাংলাদেশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশের আধিকারিকরা। ভারতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কৈলাসহর থানার ওসি তাপস মালাকার, ডিসিএম হেমন্ত ধর সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
মৃত নিত্যানন্দ মালাকারের মা, ভাই ও আত্মীয়-পরিজনেরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।জানা গেছে, কৈলাসহর পুর পরিষদের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা নিত্যানন্দ মালাকার, বয়স আনুমানিক ৩০ বছর।
পরিবার সূত্রে খবর, গত ৯ মে দুই বন্ধু মনতোষ মালাকার ও বিজয় নম ফোন করে নিত্যানন্দকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি।বহু খোঁজাখুঁজির পর পরিবারের পক্ষ থেকে কৈলাসহর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। এদিকে, নিত্যানন্দের বন্ধুদের কাছে তার খোঁজ জানতে চাওয়া হলে তারা কিছু জানেন না বলেই দাবি করে।
এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, বাংলাদেশের কুলাউড়া থানার অধীন মনু নদী থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। সেই খবরের সূত্র ধরেই পরিবারের সদস্যরা প্রাথমিকভাবে মৃতদেহটি নিত্যানন্দের বলে শনাক্ত করেন।
পরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।বৃহস্পতিবার সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনে বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের উপস্থিতিতে মৃতদেহটি মনু ল্যান্ড কাস্টমস দিয়ে ভারতে আনা হয়।
সেখানে নিত্যানন্দের ভাই ও পরিবারের সদস্যরা মৃতদেহ শনাক্ত করেন।কৈলাসহর থানার ওসি তাপস মালাকার জানান, মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে।
এদিকে, নিত্যানন্দের মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার অতি বৃদ্ধ মা ও অন্যান্য আত্মীয়রা। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।