দেশজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র সরকারের আহ্বানের পর এবার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক বার্তার প্রেক্ষিতে সরকারি দপ্তরগুলিতে কর্মী উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের সাধারণ প্রশাসন (প্রশাসনিক সংস্কার) দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি অফিসে অফিস চলাকালীন সময়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারিদের মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশ কর্মী সরাসরি অফিসে উপস্থিত থাকবেন। বাকি ৫০ শতাংশ কর্মচারিকে বাড়ি থেকে দাপ্তরিক কাজ করতে হবে।সরকারি সূত্রে খবর, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত হ্রাস করা।
বিশেষ করে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে পেট্রোল, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির উপর চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রত্যেক দপ্তরের প্রধানকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারিদের জন্য সপ্তাহভিত্তিক রোস্টার তৈরি করতে হবে। প্রথম সপ্তাহের রোস্টার তৈরির ক্ষেত্রে অফিসের নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসকারী কর্মচারিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফলে দূরবর্তী এলাকা থেকে প্রতিদিন যাতায়াতের প্রয়োজন কমবে এবং জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।এছাড়াও, যেসব কর্মচারি বাড়ি থেকে কাজ করবেন, তাঁদের টেলিফোন, মোবাইল ও অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সবসময় যুক্ত থাকতে বলা হয়েছে।
প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ বাড়িতে থাকলেও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে কোনও শিথিলতা রাখা হবে না বলেই স্পষ্ট করেছে সরকার।শুধু রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরই নয়, সরকার অধিগৃহীত সংস্থা, স্থানীয় সংস্থা, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য অধীনস্থ অফিসগুলিকেও একই ধরনের নির্দেশিকা জারি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে জরুরি পরিষেবামূলক দপ্তরগুলি এই নির্দেশিকার আওতার বাইরে থাকবে। স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও অন্যান্য অত্যাবশ্যক পরিষেবায় স্বাভাবিক কাজকর্ম আগের মতোই চলবে।প্রশাসনিক মহলের মতে, করোনা পরবর্তী সময়ে “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকটাই প্রমাণিত হয়েছে।
সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে এবার জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে নতুনভাবে এই পদ্ধতি কার্যকর করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি কর্মচারিদের যাতায়াত কমবে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ হ্রাসের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা হতে পারে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।