ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই), ত্রিপুরা রাজ্য পরিষদ। সোমবার এক বিবৃতিতে দলটি দাবি করেছে, এই নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিফলন নয়।দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি আসনে প্রায় ৭৮ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে বলে জানানো হলেও, সিপিআইয়ের অভিযোগ—এই ভোটগ্রহণ পরিকল্পিতভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের বুথে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।একইসঙ্গে, শাসক জোটের দুই শরিকের মধ্যে একাধিক এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এর জেরে টিটিএএডিসি এলাকাজুড়ে অস্থিরতা ও উত্তেজনা ছড়ায় বলে দাবি সিপিআইয়ের।বিশেষ করে ২৬-বীরচন্দ্রনগর–কলসি কেন্দ্রের উদাহরণ তুলে ধরে দলটি জানায়, সেখানে পোলিং কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব ছিল, যার ফলে বুথের ভেতরে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। সকাল ১০টার পর থেকে রিটার্নিং অফিসার ও শান্তিরবাজার মহকুমা শাসকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া, ভোটের মাত্র তিন দিন আগে ওই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার পরিবর্তন করায় প্রশাসনিক বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে বলে দাবি।আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে সিপিআই জানায়, ২৬/৩৩ নম্বর বুথে পোলিং এজেন্টদের দেওয়া ফর্ম ১৯সি-তে মোট ভোটার সংখ্যা ও প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।এছাড়াও, আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে দলটি। সিপিআইয়ের দাবি, নির্ধারিত নীরবতা পর্ব চলাকালীন বিজেপি ও তিপ্রা মথার একাধিক নেতা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালিয়ে গেছেন। এমনকি ভোটগ্রহণ চলাকালীন এক বিজেপি বিধায়ক লাইভে এসে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।দলের অভিযোগ, ভোটগ্রহণের শেষের দিকে সহিংসতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায় এবং অস্ত্র ও বোমা ব্যবহারের ঘটনাও সামনে আসে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়।এই প্রেক্ষিতে সিপিআই অভিযোগ করেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় রাজ্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। সমস্ত ঘটনার নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্তের দাবি জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।একইসঙ্গে, ত্রিপুরার জনগণের উদ্দেশে সিপিআই আহ্বান জানিয়েছে—গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য।