আসন্ন এডিসি নির্বাচন ও ধর্মনগর উপনির্বাচন ঘিরে রাজ্যজুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। নির্বাচন ঘোষণার আগেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও প্রশাসন। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার উত্তর ত্রিপুরা জেলা সফরে এসে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধনকর।রবিবার সকালে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস-এ করে ধর্মনগরে পৌঁছান ডিজিপি। সেখান থেকে সরাসরি উত্তর ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরার জেলাশাসক চাঁদনী চন্দ্রন, জেলা পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই, উনকোটি জেলার পুলিশ সুপার সুধম্ভিকা আর-সহ দুই জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা।বৈঠকে মূলত নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ বুথগুলিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন ডিজিপি। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি আরও কড়া করার ওপর জোর দেওয়া হয়, যাতে কোনও ধরনের অনুপ্রবেশ বা অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটতে না পারে।প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের আগে প্রতিটি বুথের নিরাপত্তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোথায় কত সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অতীতে অশান্তির নজির রয়েছে, সেগুলিকে চিহ্নিত করে আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিকভাবে সফর করছেন ডিজিপি অনুরাগ ধনকর। এর আগে খোয়াই, ধলাই ও গোমতী জেলাতেও গিয়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন তিনি। ফলে স্পষ্ট, নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডিজিপি জানান, এডিসি নির্বাচনের জন্য এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন না হলেও ইতিমধ্যেই সেই বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ধর্মনগর উপনির্বাচন-এর জন্য রাজ্যের নিজস্ব পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী যথেষ্ট রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।সবমিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্য পুলিশ যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত—ডিজিপির এই সফর সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।