ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের বরখাস্ত কমান্ড্যান্ট তপন দেববর্মার অবসরভাতা সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তার পেনশন ও অন্যান্য অবসরকালীন সুবিধা বরখাস্ত হওয়ার আগে প্রাপ্ত সর্বশেষ মূল বেতনের ভিত্তিতে পুনর্গণনা করে প্রদান করতে হবে।
পাশাপাশি, বকেয়া অর্থ সুদসহ মেটানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, তপন দেববর্মা ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের ২য় ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট ছিলেন। তিনি ৬০ বছর পূর্ণ করে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ অবসর গ্রহণ করেন।
তবে এর অনেক আগেই, ২১ নভেম্বর ২০১৭-তে বোধজুঙ্গনগর থানার একটি খুনের মামলায় (ধারা ৩০২ আইপিসি ও আর্মস অ্যাক্টের ধারা ২৭) গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে ওই মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনও বিচারাধীন।
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বরখাস্ত থাকার সময় তিনি বর্ধিত সাবসিস্টেন্স এলাউন্স পাননি। শুধু তাই নয়, অবসর গ্রহণের পরও তার আংশিক পেনশন ও ছুটি নগদীকরণ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। অভিযোগে আরও বলা হয়, ছুটি নগদীকরণের পরিমাণ নির্ধারণে তার সর্বশেষ বেতনের পরিবর্তে সাবসিস্টেন্স এলাউন্স ধরা হয়েছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ।
এছাড়াও, তার জেনারেল প্রোভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ) এক বছরের বেশি বিলম্বে, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্রদান করা হয়, যা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।বিচারপতি এস. দত্ত পুরকায়স্থের একক বেঞ্চ মামলার নথি খতিয়ে দেখে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে। আদালত জানায়, বরখাস্ত হওয়ার আগে তপন দেববর্মার শেষ মূল বেতন ছিল ৯২,০৭০ টাকা।
অথচ, তার সাবসিস্টেন্স এলাউন্স নির্ধারণ করা হয়েছিল মাত্র ৪৬,০৩৫ টাকা (প্লাস প্রযোজ্য ভাতা)। এই নিম্ন হারকেই ভিত্তি করে তার পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা হিসাব করা হয়েছে, যা সঠিক নয় বলে আদালত মনে করে।আদালত কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিসেস (পেনশন) বিধি, ১৯৭২-এর রুল ৬৫ উল্লেখ করে জানায়, আংশিক পেনশন অবসর গ্রহণের সময় পর্যন্ত যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে এবং তা শুধুমাত্র সাবসিস্টেন্স এলাউন্সে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না।
এই যুক্তিতে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে নির্দেশ দেয়, আবেদনকারীর ছুটি নগদীকরণ ও আংশিক পেনশন সর্বশেষ মূল বেতনের ভিত্তিতে পুনর্গণনা করতে হবে।এছাড়াও আদালত নির্দেশ দেয়, যদি কোনো বকেয়া অর্থ থাকে, তবে তা অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে সুদসহ প্রদান করতে হবে। জিপিএফ বিলম্বে দেওয়ার কারণে, ওই অর্থের ওপরও বার্ষিক ৭ শতাংশ হারে সুদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, ২০১৯ ও ২০২২ সালের নির্দিষ্ট চার মাসের বকেয়া সাবসিস্টেন্স এলাউন্স দ্রুত মেটানোর কথাও বলা হয়েছে।আদালত আরও জানায়, আবেদনকারীকে একটি অঙ্গীকারপত্র জমা দিতে হবে, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে ভবিষ্যতে বিভাগীয় প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রায়ে যদি কোনো অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তিনি তা করবেন।
এই অঙ্গীকারপত্র জমা দেওয়ার পর দুই মাসের মধ্যে সমস্ত বকেয়া অর্থ সুদসহ পরিশোধ করতে হবে।উল্লেখ্য, তপন দেববর্মা সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিক হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত হিসেবে অভিযুক্ত। যদিও সেই মামলার বিচার এখনও শেষ হয়নি, তবুও প্রশাসনিক ও আর্থিক অধিকারের প্রশ্নে আদালতের এই রায় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।