বাল্যবিবাহ নির্মূল ও কন্যাশিশুদের সুরক্ষা-শিক্ষা নিশ্চিত করতে ‘বাল্যবিবাহ মুক্ত ভারত অভিযান’ ও ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির আওতায় আইসিডিএস প্রকল্পের উদ্যোগে শনিবার মুঙ্গিয়াকামি ব্লকের বি.এ.সি কমিটি হলে এক গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বি.এ.সি চেয়ারম্যান সুনিল দেববর্মা, ব্লক প্রশাসনের আধিকারিক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) জানান, মুঙ্গিয়াকামি ব্লক এলাকায় সম্প্রতি ২০টি নতুন অঙ্গনওয়ারী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যা এলাকার শিশু ও মাতৃসেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এদিন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত কৃতি ছাত্রছাত্রীদের হাতে প্রশংসাপত্র তুলে দেন মন্ত্রী ও অতিথিরা। পাশাপাশি ৬ জন অঙ্গনওয়ারী কর্মী ও হেলপারদের নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী মাতৃ পুষ্টি প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তা মহিলাদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেকও বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বাল্যবিবাহকে সমাজের ‘ভয়াবহ অভিশাপ’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ২০৩০ সালের পর কোনওভাবেই বাল্যবিবাহ বরদাস্ত করা হবে না। বিশেষ করে মুঙ্গিয়াকামি এলাকায় এই প্রবণতা এখনও থাকায় সামাজিক সচেতনতা বাড়িয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে অঙ্গনওয়ারী কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি কন্যাশিক্ষার প্রসারে সরকার একলব্য আশ্রম বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে, যাতে ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে।
অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা ও ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।