ত্রিপুরা আজ শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও শিল্প-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই দ্রুত অগ্রগতির পথে এগোচ্ছে। উন্নয়নের নিরিখে রাজ্য ইতিমধ্যেই দেশের মানচিত্রে একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনীয়া বিদ্যাপীঠ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভার্চুয়াল উদ্বোধন ও শিলান্যাস করতে গিয়ে এমনটাই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।দিনের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বিলোনীয়া মহকুমার রাজনগর এলাকায় নিহারনগর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত পাকা ভবনের উদ্বোধন করেন। প্রায় ৬ কোটি ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ভবন এলাকার শিক্ষার পরিকাঠামোয় নতুন সংযোজন। এরপর ঘোষখামার দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ৯ কোটি ৮ লক্ষ টাকার নতুন ভবন এবং বিলোনীয়া ইংরেজি মাধ্যম দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের ৪ কোটি ৩ লক্ষ টাকার পাকা ভবনেরও উদ্বোধন করা হয়।ঘোষখামার বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য—প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়া। রাজনগর এলাকায় প্রায় ৮০ কোটি টাকার প্রকল্পে রাস্তাঘাট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি জানান, উন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই ৩৪৭টি পুরস্কার অর্জন করেছে।শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের উপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে স্মার্ট ক্লাসরুম, ডিজিটাল লাইব্রেরি, নতুন স্কুল স্থাপন এবং ছাত্রছাত্রীদের স্টাইপেন্ড প্রদান করা হচ্ছে। নয়া শিক্ষানীতির আলোকে এসসিইআরটি কোর্স চালু হয়েছে। গুণগত শিক্ষার জন্য শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। তাঁর কথায়, “বিদ্যালয় হলো মন্দির, শিক্ষকরা সেই মন্দিরের পথপ্রদর্শক।”স্বচ্ছ নিয়োগ নীতিতে টেটের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, পিএম-শ্রী ও বিদ্যাজ্যোতি স্কুল স্থাপন, এবং ৪৩৫টি বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি খেলাধুলার উন্নয়নে নতুন মাঠ ও প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো তৈরির উদ্যোগের কথাও জানান। নেশামুক্ত ত্রিপুরা গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।এদিন বিলোনীয়া ইন্ডোর ক্রিকেট অনুশীলন শেডের উদ্বোধনের পাশাপাশি জিরানীয়া ও কৈলাসহরে আরও দুটি ইন্ডোর ক্রিকেট কেন্দ্র ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করা হয়। একইসঙ্গে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা নেশামুক্ত প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ফাইনাল ম্যাচের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।এছাড়াও বিলোনীয়ার বনকরে ২১ কোটি টাকার বিদ্যাসাগর মাছ ও সবজি বাজারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।অনুষ্ঠানে সমবায় মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া জানান, নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ করে তুলতে রাজ্যে ২১টি একলব্য বিদ্যালয়সহ একাধিক পরিকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে একাধিক বিধায়ক, প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা নীরালতা ত্রিপুরাকে সংবর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি এসএসসি (জি.ডি.) জে.এ.জি.আর.এ.টি.-এর কয়েকজনকেও সম্মানিত করা হয়।উন্নয়ন, শিক্ষা ও ক্রীড়ার সমন্বয়ে ত্রিপুরাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তাই এদিন বিলোনীয়া থেকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।